ঢাকা: বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। নতুন চুক্তিতে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চুক্তিতে সই করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন।
বিমান জানিয়েছে, নতুন চুক্তিটি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিমানের বহর পরিকল্পনার নির্দিষ্ট প্রয়োজন বিবেচনা করেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন ১১টি উড়োজাহাজের চুক্তির আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বিমান। ওই চুক্তিতে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮। নতুন চুক্তি যুক্ত হওয়ায় ২০২৬ সালে বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট অর্ডার দাঁড়াল ২৫টি।
দুই চুক্তি মিলিয়ে বিমানের অর্ডারে থাকছে ১৩টি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ।
এর মধ্যে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক রুটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ একক-আইল উড়োজাহাজ হিসেবে আঞ্চলিক ও মধ্যম দূরত্বের রুটে বিমানের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানিয়েছে বোয়িং।
বিমানের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা হিসেবে দেশের মানুষ, প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা বাড়ানো তাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার জন্য একটি বিস্তৃত ও সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন চুক্তি করা হয়েছে।
বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন ৭৮৭-১০ ও ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বিমানের বিদ্যমান বোয়িং বহরের সঙ্গে পরিচালনাগত সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজগুলো বহর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাকে সমর্থন করবে।
বর্তমানে বিমান আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বোয়িং ৭৮৭, ৭৭৭ ও ৭৩৭ নেক্সট-জেনারেশন উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে। এসব উড়োজাহাজের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে যোগাযোগ রয়েছে।
বোয়িং জানিয়েছে, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স পরিবারের উড়োজাহাজগুলো যেসব উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন করবে, সেগুলোর তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি জ্বালানি-সাশ্রয়ী। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের পরিচালন দক্ষতা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনাতেও সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এদিকে বিমানের বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা শুধু বোয়িংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি আলাদাভাবে ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে বোয়িং ও এয়ারবাস মিলিয়ে বিমানের সম্ভাব্য নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা ৩৫টিতে দাঁড়াতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।