কারাগারে ভিআইপি বন্দিদের বিলাসবহুল ঘর, বরখাস্ত ৫ কর্মকর্তা
ইন্দোনেশিয়ার সিবিনং কারাগারে বন্দিদের জন্য বিলাসবহুল আবাসন, এসি, ফ্রিজ, জিম, সুইমিং পুল ও গলফ সিমুলেটর পাওয়ার পর পাঁচ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার ইরাকের সর্বশেষ ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সাড়ে চার হাজার মার্কিন সেনার প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হওয়া এই সামরিক প্রস্থানের ঘটনাকে ইরাকে প্রভাবশালী ইরান ও তাদের মিত্ররা নিজেদের বড় রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ‘বিজয়’ হিসেবে উদ্যাপন করছে।
তবে মাঠপর্যায় থেকে সেনা গুটিয়ে নিলেও ২০০৩ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পর থেকেই ইরাকের তেল বিক্রির অর্থের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আজও বজায় রয়েছে। বাগদাদ থেকে মার্কিন সেনা সরলেও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং অর্থনীতির গভীরে ওয়াশিংটনের এই পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ বহাল তবিয়তে টিকে আছে।
ইরাকের আয়ের প্রধান ও সিংহভাগ উৎস হলো তেল, যা দেশটির জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯০ শতাংশ পূরণ করে। এই বিশাল তেল রাজস্বের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের মূল ভিত্তি গড়ে উঠেছে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের মাধ্যমে।
২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘কোয়ালিশন প্রভিশনাল অথরিটি’ (সিপিএ) গঠন করে ‘ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ফর ইরাক’ (ডিএফআই) তহবিল চালু করে। নিউ ইয়র্ক ফেডে রক্ষित এই তহবিলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন এবং সাদ্দাম হোসেনের শাসনামল সংশ্লিষ্ট পাওনা দাবির হাত থেকে তেল রাজস্ব সুরক্ষিত রাখা। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্বাহী আদেশে শুরু হওয়া এই ব্যবস্থা পরবর্তীতে প্রতিটি মার্কিন প্রশাসনের আমলেই নবায়ন করা হয় এবং এটিই বর্তমানের ইরাকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিউ ইয়র্ক ফেড হিসাবে রূপ নিয়েছে।
ইরাকের তেল রাজস্ব ব্যবস্থাপনার এই নিয়ন্ত্রণ দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছে। অতীতে ২০২০ সালে যখন ইরাক সরকার মার্কিন সেনা হটিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিল, তখন ওয়াশিংটন নিউ ইয়র্ক ফেডে থাকা দেশটির তহবিলে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়, যার জেরে বাগদাদ সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরাকি কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থার কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক বাজারে আর্থিক আস্থা বাড়াতে, বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য সহজে ডলার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এবং দিনারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখছে। এমনকি এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ইরাক সরকার স্থানীয় কিছু ইরানপন্থি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি জোরালো করায় বাগদাদ এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে ইরাককে নিজেদের অর্থনীতির একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে তেহরান।
তবে ওয়াশিংটনের তীব্র চাপের মুখে গত বছর ইরাক ইরানের দিকে ডলার পাচারের অভিযোগে বেশ কিছু ব্যাংক ও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং ২০২৫ সালের শুরুতে বহুল আলোচিত ‘ডলার নিলাম’ বা ‘ফরেন কারেন্সি উইন্ডো’ ব্যবস্থাও আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেয়। ফলে সামরিকভাবে ইরাক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ডোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের এই জটিল সমীকরণ বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে চলেছে।