স্থল হামলা হলে মার্কিন ঘাঁটি জাহাজে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র স্থল হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইআরজিসির উপদেষ্টা আলী ফাদাভি। হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক: আবাসন সংকট নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ এবং পার্লামেন্টে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আবাসন সংস্কার প্রস্তাব আটকে যাওয়ার পর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। আগামী ২৯ নভেম্বর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মাদ্রিদের মনক্লোয়া প্রাসাদ থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন সানচেজ। তিনি বলেন, স্পেনের মানুষকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তারা নিজেদের ও দেশের জন্য কেমন ভবিষ্যৎ চান।
সরকারের আনা আবাসনসংক্রান্ত দুটি জরুরি ডিক্রি পার্লামেন্টে অনুমোদন না পাওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা এলো। প্রস্তাব দুটির মধ্যে উচ্ছেদ ঠেকানো, ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা জোরদার এবং আবাসন খাতে জল্পনাকল্পনা নিয়ন্ত্রণের মতো পদক্ষেপ ছিল।
পার্লামেন্টে প্রস্তাবগুলো প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আবাসন সংকট নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়। গত শনিবার মাদ্রিদসহ প্রায় ৫০টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মাদ্রিদে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ এতে অংশ নিয়েছে বলে সরকারি হিসাবের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আবাসনের ব্যয় ও ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় স্পেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষোভ বাড়ছে। রাজধানী মাদ্রিদের কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সোল এলাকায়ও বিক্ষোভকারীরা অবস্থান নিয়েছেন।
টেলিভিশন ভাষণে সানচেজ স্বীকার করেন, তার সরকার কিছু ক্ষেত্রে ভুল করেছে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সবগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে অসমতা কমানো ও সামাজিক সংস্কারের কাজ চালিয়ে যেতে নতুন করে জনগণের সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সানচেজ বলেন, নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে এমন একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ে তুলতে চান, যা সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
২০২৩ সালে বর্তমান সরকার গঠনের পর থেকেই সানচেজকে পার্লামেন্টে বিভিন্ন দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত পার্লামেন্টের কারণে সরকারের আইন পাসের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মেয়াদে সরকার ২০২৩ সালের পর আর কোনো জাতীয় বাজেট পাস করতে পারেনি।
আগাম নির্বাচন তাই শুধু আবাসন সংকটের প্রতিক্রিয়া নয়, দীর্ঘদিনের পার্লামেন্টারি অচলাবস্থা কাটিয়ে নতুন ম্যান্ডেট পাওয়ার প্রচেষ্টাও হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল পিপলস পার্টি (পিপি) দীর্ঘদিন ধরে সানচেজের সরকারকে পার্লামেন্ট ভেঙে আগাম নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। নির্বাচনের ঘোষণাকে দলটি স্বাগত জানিয়েছে।
আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনে আবাসন সংকটের পাশাপাশি সরকারের নীতি, রাজনৈতিক জোট ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।