মাউশির নাম-লোগো ব্যবহার করা ভুয়া ফেসবুক পেজ-গ্রুপ বন্ধে ৭ দিনের সময়
মাউশির নাম, লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করে পরিচালিত অননুমোদিত ফেসবুক পেজ ও গ্রুপ সাত দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষকতাকে ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হিসেবে না দেখে শিক্ষা-দীক্ষায় দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেন, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার ওপরই রাষ্ট্রের সম্মান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভর করে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করা হয়। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের সকল স্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে আদর্শ রোল মডেল ও প্রিয়জন হয়ে উঠলে বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সুনাগরিক হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের প্রতিচ্ছবি হিসেবে অন্তত একজন শিক্ষককে আমন্ত্রণের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষা পদ্ধতিতে নতুন মাত্রা যুক্ত করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে কেবল মুখস্থবিদ্যা বা সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষার বদলে ব্যবহারিক ও কর্মমুখী শিক্ষা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় চলতি বছরের মধ্যেই নতুন আধুনিকায়িত সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা বই পাবে বলে জানান তিনি। আনন্দময় শিখন অভিজ্ঞতা তৈরিতে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই প্রদান কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রযুক্তিকে শিক্ষকের বিকল্প না বানিয়ে শিক্ষকের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষকরা আধুনিক ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রশ্নব্যাংক ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ প্রদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গ্রাম ও শহরের শিক্ষার মান বৈষম্য দূর করার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।