র্যাব বিলুপ্তি ও এসআরবি গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নতুন চ্যালেঞ্জ : রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান
র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (SRB) গঠনের বিল সংসদে পাসের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, বিরোধী দলের আশঙ্কা ও সংস্কারের রূপরেখা।
দেশের ৬৪টি জেলাতেই ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার এবং প্রতিদিন শত শত মানুষের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা কেবল একটি সাময়িক স্বাস্থ্য সমস্যা নয়; বরং এটি আমাদের জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এক মারাত্মক হুমকি। প্রতিরোধযোগ্য এই রোগে প্রায় প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আইইডিসিআর এবং জনস্বাস্থ্যবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যার মধ্যে অন্তত ১৫টি জেলা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক সারা দেশে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু বিরোধী অভিযান উদ্বোধনের উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তবে এই অভিযান যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে মশক নিধন ও জনসচেতনতার কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে কেবল সরকারের একক প্রয়াস বা মশক নিধন স্প্রে ছিটানোই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত ও অব্যাহত অংশীদারিত্ব।
আইইডিসিআর চিহ্নিত ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, কক্সবাজারসহ ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি জেলায় সংক্রমণের হার কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।
শুধু উড়ন্ত মশা না মেরে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কার্যকর লার্ভিসাইডিং ওষুধ ছিটানো নিশ্চিত করতে হবে। কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে হটস্পট এলাকাগুলোতে তদারকি বৃদ্ধি করতে হবে এবং জমে থাকা পানির উৎসগুলো অপসারণে কঠোর অভিযান চালাতে হবে।
রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এনএস১ ডেঙ্গু টেস্ট এবং শয্যা সংকট যেন তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
ডেঙ্গু চিকিৎসায় ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত রাখা এবং চিকিৎসকদের ডেঙ্গু গাইডলাইন অনুসরণে প্রস্তুত রাখা আবশ্যক।
নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, ফুলের টব ও নির্মাণাধীন ভবনে যেন ডাবের খোসা বা পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি না জমে, সে বিষয়ে নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা বাড়াতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার যে তিন মাসব্যাপী দেশব্যাপী অভিযানের ডাক দিয়েছে, তা সফল করতে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত স্তরে জবাবদিহিতা প্রয়োজন। ডেঙ্গু কোনো একক কর্তৃপক্ষের দ্বারা দূর করা সম্ভব নয়; সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার যদি নিজেদের আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তবেই এই প্রাণঘাতী বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত এই ডেঙ্গু সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাবে—এটাই প্রত্যাশা।
লেখক: রোটারিয়ান এম. নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তক।