ইরানের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবেন পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে রওনা হয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইরানের অবস্থান ও অধিকার দৃঢ়ভাবে তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার অপটিক লাইন কেটে যাওয়ায় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। কয়েক ঘণ্টার এই যোগাযোগ বিপর্যয়ে নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ফিলাডেলফিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে শত শত ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ফিলাডেলফিয়া এয়ার রুট ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারের (ট্র্যাকন) প্রাথমিক যোগাযোগ সার্কিটে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর ব্যাকআপ ব্যবস্থায় যাওয়ার চেষ্টা করলে দেখা যায়, সেই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ফাইবার অপটিক লাইনটিও নির্মাণকাজের সময় কেটে গেছে।
এফএএর যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় নিউয়ার্ক লিবার্টি, জন এফ কেনেডি (জেএফকে), লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড স্টপ ও গ্রাউন্ড ডিলে জারি করা হয়।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের হিসাবে, দিনের এক পর্যায়ে নিউয়ার্কে ১৬৮টি ফ্লাইট বাতিল ও ৯৭টি বিলম্বিত হয়। ফিলাডেলফিয়ায় ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল এবং ১৮৯টি বিলম্বিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মোট প্রায় ৭ হাজার ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি জানান, বিকেলের দিকে লাগার্ডিয়া ও ফিলাডেলফিয়ায় বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরে নিউয়ার্ক, জেএফকে ও লাগার্ডিয়াসহ প্রধান বিমানবন্দরগুলোতেও কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে জমে থাকা ফ্লাইটের চাপের কারণে আরও কিছু সময় বিলম্ব অব্যাহত থাকে।
ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, নিউ জার্সিতে নির্মাণকাজের সময় একটি দল ভুলবশত ফাইবার অপটিক লাইন কেটে ফেলায় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটে। এ কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় এফএএ।
তবে পরে নিউ জার্সি ট্রানজিট জানায়, তাদের একটি নির্মাণদল নিউ ব্রান্সউইক ও নর্থ ব্রান্সউইকের মধ্যবর্তী এলাকায় কাজ করার সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪৫ মিনিটে ফাইবার অপটিক কেবল কেটে ফেলে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কেবলটির অবস্থান সম্পর্কে নির্মাণদলকে কী ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এফএএ প্রশাসক ব্রায়ান বেডফোর্ড জানান, সমস্যাটি শুধু ফাইবার কেবল কেটে যাওয়ার কারণে হয়নি। প্রথমে প্রাথমিক যোগাযোগ সার্কিটে ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর ব্যাকআপ ব্যবস্থায় যাওয়ার সময় দেখা যায়, সেই ব্যাকআপ ফাইবার লাইনটিও ক্ষতিগ্রস্ত।
ফলে বিমান নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। বেডফোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, কাটা ব্যাকআপ ফাইবারটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং সেটি পুরোপুরি মেরামতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগার আশঙ্কা ছিল।
পরে সংশ্লিষ্ট টেলিযোগাযোগ লাইন মেরামত করা হলে বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম আবার শুরু হয়। তবে বিপুলসংখ্যক বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে আরও সময় লাগে।
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পুরোনো অবকাঠামো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবহনমন্ত্রী ডাফি এ ধরনের বিঘ্ন এড়াতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো আধুনিকায়নে আরও বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা শহরটিতে আসছিলেন। ফলে বিমান চলাচলের এই বিপর্যয়ের প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়।