সারের সংকটে সড়কে কৃষক, ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ
লালমনিরহাটে সারের তীব্র সংকটে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। হাতীবান্ধায় ডিলারদের বিরুদ্ধে কালোবাজারে সার বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।
পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) এর মৃত্যুকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তার প্রকৃত চিত্র ভিন্ন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি পিরোজপুরে ছিলেন না। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। দুই মাস ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগে গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টায় সেখানে তাঁর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
তিনি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৬ষ্ঠ সাক্ষী ছিলেন।
গেজেট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানিক পশারীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য প্রদানের পরবর্তী সময়ে তিনি গেজেটভুক্ত হন। এই কারণে তাঁর গেজেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এই বিতর্ক থেকেই গার্ড অব অনার নিয়ে আপত্তি ওঠে।
গার্ড অব অনারে আপত্তি, দাফনে নয়
২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে গার্ড অব অনারের জন্য আনা হলে স্থানীয় জনতা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা গার্ড অব অনারের বিরোধিতা করেন।
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শেখ আব্দুর রাজ্জাক স্পষ্ট করে বলেন, মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনার দিতে দেওয়া হবে না বলে তিনি প্রতিবাদ করেছেন, তবে দাফনে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
অন্যান্য সংবাদেও উল্লেখ আছে, জামায়াত নেতারা দাফনে বাধার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দীর্ঘ জটিলতার পর বিকেল ৫টার দিকে জেলা পুলিশ লাইন্সের ভেতরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে রাত ১টা ২০ মিনিটে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে পুলিশ পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
গুজব ও প্রকৃত তথ্য
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ তাঁর লাশ দাফনে সরাসরি বাধা প্রদান করেনি। দাফনের জন্য খোঁড়া কবর নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হয়েছে, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
আল্লামা সাঈদীর মামলার বাদী হওয়ার কারণে একটি ইসলাম বিদ্বেষী চক্র এই স্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সমাজ ও জামায়াতে ইসলামীকে বিতর্কিত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে “দাফনে বাধা”র গুজব ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ। বাস্তবে প্রতিবাদ ছিল রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা গার্ড অব অনার নিয়ে, মৃত ব্যক্তির দাফন নিয়ে নয়।
পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম জানান, মানিক পশারী গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দাফন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
শেষ কথা: একজন বয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানিয়ে সত্য তুলে ধরা উচিত। গেজেটের সত্যতা যাচাই করা রাষ্ট্রের কাজ, কিন্তু মৃত্যুর পর দাফন নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা সমাজে বিভেদ বাড়ায়।