আফিফ-সোহানের পর মেহেদির শেষের ঝলকে চ্যালেঞ্জিং স্কোর

বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর একাদশে বড় পরিবর্তন নিয়ে আজ পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাট হাতে নেমেই চরম বিপদে পড়ে মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। তবে আফিফ, সোহান ও মেহেদীর তিনটি ঝড়ো ইনিংসে কোনোমতে দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার করতে পেরেছে বাংলাদেশ।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট ১২৭ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।
বিশ্বকাপ শেষেও পাওয়ার প্লেতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের ভোগান্তি শেষ হয়নি। একের পর এক বাজে শটে ফিরেছেন টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যান।
লড়াইয়ের মানসিকতাটুকু পর্যন্ত দেখাতে পারছিল না বাংলাদেশ দল।
শুরুতে বাংলাদেশ শিবিরে আঘাত হানেন হাসান আলি। তার প্রথম ও ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে গেলেন ওপেনার নাঈম শেখ।
যে বল ওয়াইড হতেই পারত, সেই বলে ব্যাট চালিয়ে উইকেট উপহার দিলেন মোহাম্মদ নাঈম শেখ। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম সাফল্য পেল পাকিস্তান।
অফস্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাটের কানায় ছুঁয়ে সোজা চলে যায় উইকেট কিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে।
৩ বলেই ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন নাঈম।
নাঈমের বিদায়ের পর যেন তার অনুসরণ করলেন সাইফ হাসান। ৩য় ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমের করা শেষ বলে ফখর জামানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সাইফ। ৮ বল খেলে মাত্র ১ রানে আউট হয়ে ফিরলেন লিটন দাসের বদলে একাদশে জায়গা পাওয়া সাইফ।
দীর্ঘদিন পর একাদশে সুযোগ পেয়ে পারলেন না নাজমুল হাসান শান্তও। তিনিও নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এলেন।
পরের ওভারেই ওয়াসিমের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি।
৫ম ওভারের ৪র্থ ডেলিভারিটি শান্তর কোমর সমান উঁচুতে ওঠে। শান্ত ক্রস ব্যাট চালান শান্ত। টাইমিং না হলে বল উঠে যায় সোজা আকাশে। উইকেটের বাইরে যেতে পারেনি শান্তর সেই শট। ফলে নিজের বলে ক্যাচ নেন ওয়াসিম নিজেই।
১৪ বলে ৭ রান করে ফিরলেন শান্ত।
মাত্র ১৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বোলারদের তোপে চোখে শর্ষে ফুল দেখছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
এ সময় উইকেটে এসে দুর্দান্ত খেলেন অলরাউন্ডার আফিফ হোসেন। তার ব্যাটে স্বপ্ন বুনছিল বাংলাদেশ। দুই বাউন্ডারির পর টানা দুই ছক্কাও হাঁকিয়ে বাঘের গজর্ন দিচ্ছিলেন একাই।
কিন্তু বাংলাদেশের সেই স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দেন শাদাব খান। ১৩তম ওভারের পঞ্চম ডেলিভারিটি গুগলি করেন শাদাব। বলের গতি বুঝে উঠেতে পারেননি আফিফ।
বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় লেগ স্পিনারের গুগলির নাগাল পাননি আফিফ। গ্লাভসে বল জমিয়েই বেলস ফেলে দেন মোহাম্মদ রিজওয়ার। ভাঙে ২৩ বল স্থায়ী ২১ রানের জুটি।
দুটি করে ছক্কা ও চারে ৩৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন আফিফ। আফিফের বিদায়ের বলে ব্যাটে-বলে ভালোই মিলছিল নুরুল হাসান সোহানের।
দুই ছক্কা হাঁকিয়ে বাঘের গর্জন শোনান এই বাংলাদেশি উইকেটকিপার। তবে বেশি দূর যেতে পারেননি। ১৭তম ওভারের পঞ্চম বলটি ফুলার করেন হাসান আলি। ব্যাটে-বলে হয়নি এবার। উইকেটকিপার রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সোহান।
২২ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে বিদায় নেন সোহান। ১৭.৫ ওভারে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছায় দল।
শেষ দিকে রানের গতি বাড়ান শেখ মেহেদী। এক বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় মাত্র ২০ বলে ৩০ রান করেন।
তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। হাসান আলির বলে ২ রানে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। শেষ বলে তাসকিন ছক্কা হাঁকালে ১২৭ রানে থামে বাংলাদেশ। হারিস রউফের শর্ট বল পুল করে ইস্টার্ন গ্যালারির দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ফেললেন তাসকিন আহমেদ! শেষটা অন্তত ভালো করে মাঠ ছাড়তে পারল বাংলাদেশ।
শেষ ১০ ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে যোগ করে আরও ৮৭ রান।
পাকিস্তানের পক্ষে সবচেয়ে সফল বোলার হাসান আলি। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৭/ (নাঈম ১, সাইফ ১, শান্ত ৭, আফিফ ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ৬, সোহান ২৮, মেহেদি ৩০*, আমিনুল ২, তাসকিন ৮*; নওয়াজ ৪-০-২৭-১, হাসান ৪-০-২২-৩, ওয়াসিম জুনিয়র ৪-০-২৪-২, রউফ ৪-০-৩৩-০, শাদাব ৪-১-২০-১)
মন্তব্য করুনঃ
মন্তব্য সমূহ (কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।)