পুলিশের ওপর হামলা
অনুসারীদের ডেকে গ্রেপ্তার ঠেকানোর চেষ্টা ছাত্রদল নেতার

রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখমের মামলায় গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশ দেখেই ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) তাঁর অনুসারীদের মুঠোফোনে খবর দেন। নিউমার্কেট থানার সামনে এসে তাঁদের জড়ো হতে বলেন। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার পর এ বার্তা পেয়ে থানার সামনে জড়ো হন তাঁরা। এরপর ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করে ভোর ৪টা ১০ মিনিটে থানার সামনে পৌঁছালে হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় করা মামলার প্রাথমিক তদন্ত থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। ১০ জানুয়ারি রাতে এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে ওই বিপণিবিতানের ব্যবসায়ী ও সাবেক ছাত্রদল নেতা এহতেশামুল হককে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসাইন ওরফে মিথুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান।
তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মোহাম্মদ হোসাইনকে ধরতে রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের খালেক মার্কেটে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি যেসব লোকের কাছে বিষয়টি জানান তাঁদের একজন শরীফুল ইসলাম (দুর্জয়)। শরীফুল ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ফোন করে অভিযানের কারণ জানতে চান। এরই মধ্যে কাঁঠালবাগান এলাকার যুবদল নেতা তরিকুল, কলাবাগানের বিল্লাল ওরফে কালা বিল্লাল, বাবুসহ কয়েকজন ঘটনাটি জেনে যান। ভোর চারটার মধ্যে তাঁরা থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন।
শুক্রবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে ডিএমপি নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) তারিক লতিফের নেতৃত্বে পুলিশের দলটি ছাত্রদল নেতাকে নিয়ে নিউমার্কেট থানার সামনে আসেন। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছাত্রদল নেতাকে বহনকারী গাড়িটি যেন থানায় ঢুকতে না পারে, এ জন্য পথরোধ করেন তাঁর ৪০–৫০ জন অনুসারী।
একপর্যায়ে ওই ছাত্রদল নেতাকে ছিনিয়ে নিতে অনুসারীরা হামলা চালান। এতে এসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকেন এবং হুমকি দেন শরীফুল ইসলাম দুর্জয়। হামলার ঘটনা প্রচার হওয়ার পর মোহাম্মদ হোসাইন মিথুনকে ছাত্রদল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় নিউমার্কেট থানায় মামলা করেছিলেন সেদিন হামলার শিকার আরেক ব্যবসায়ী ওয়াহিদুল হাসান (দিপু)। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে হোসাইন মিথুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক ওমর ফারুক আরেকটি মামলা করেন। এ মামলায় মোহাম্মদ হোসাইনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দুটি মামলার তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হোসাইন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল হাসান ওরফে ইমনের হয়ে কাজ করতেন। ব্যবসায়ীকে কোপানোর ঘটনার নেপথ্যে ছিল মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে চাঁদাবাজি, অবৈধ দোকান বসানো, ইন্টারনেট সংযোগ, খাওয়ার পানি সরবরাহ ও ময়লা সরানোর কাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
ব্যবসায়ী এহতেশামকে কোপানোর ঘটনার আগে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ হোসাইন মিথুন মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বিপণিবিতানটির ব্যবসায়ী ও এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওয়াহিদুল হাসান (দিপু)। তিনি বলেন, কল্যাণ সমিতির নির্বাচন বানচাল করতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নির্দেশে ৫০–৬০ জনকে নিয়ে মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে এসেছিলেন মিথুন। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা চলে যান।
পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ধানমন্ডির বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে বাসিন্দাদের ‘আওয়ামী লীগের অনুসারী’ বলে ভয় দেখিয়ে লুটের ঘটনার সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা। ধানমন্ডির ৯/এ সড়কের একটি বাসায় এমন একটি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, মিথুন ১৫-২০ জন অনুসারী নিয়ে একটি বাড়িতে প্রবেশ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহসীন উদ্দীন বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য–প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুনঃ
মন্তব্য সমূহ (কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।)