নারী গৃহশ্রমিকদের জীবন ও সম্মানের বিনিময়ে রেমিট্যান্স নয়!

আতিকুল ইসলাম: সুন্দর জীবনের প্রত্যাশায় যে মেয়েটিকে দালালের মিথ্যা প্ররোচনায় সৌদি আরবে পাঠিয়েছিল পরিবার, আজ তারাই শাহজালাল বিমানবন্দরে কিশোরী মেয়ের মরদেহ নিয়ে কাঁদছেন। আপনার কোলে থাকা মেয়েটি কোথাও কাজ করতে এরকম নির্মমতার বলি হচ্ছে। আপনার মনের অবস্থা তখন কেমন হতো? এভাবে মৃত্যু মিছিলের কথা শুনে মনে হচ্ছে বাংলাদেশ তাদের মেয়েদের সৌদিতে পাঠাচ্ছে মৃতদেহ হয়ে ফিরে আসার জন্য? কিন্তু এদের প্রতি নির্যাতনের ধরন এক, মৃত্যুর কারণও এক, দালালদের খপ্পরে পড়ার পদ্ধতিও এক। নির্যাতিত হয়ে দেশে ফিরে আসার পর, তাদের প্রতি লাঞ্ছনার চিত্রও এক এবং সর্বোপরি তাদের প্রতি বিচারহীনতার সংস্কৃতিও এক।
সৌদি আরব রিয়াদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে আমার সাথে অসংখ্য নারী সাক্ষাত এবং কথা হয় । তাদের বক্তব্যে তারা অনেকেই শারীরিকভাবে নির্যাতিত,তাদেরকে জোরপূর্বক ভাবে বাধ্য করা হয় শারীরিক সম্পর্ক করতে। কেউ বা ফিরছে একদম খালি হাতে আবার কেউ বা ফিরছে না বলা কষ্ট বুকে চেপে রেখে। বিভিন্ন এজেন্সি টাকার জন্য ভালো মন্দ বিচার না করে নারী কমিটির তুলে দিচ্ছে বিভিন্ন দালালদের হাতে,সে বিষয়টি আমাদের দেশের সরকারের গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।
আমরা অন্যায় ভাবে বিক্রি করে দিচ্ছি আমাদের নারী কর্মীদের। তার মানে এটাই দাঁড়ায় নারীদের সম্মান এর চেয়ে রেমিটেন্স অনেক বড়। আমরা চাইনা সেই রেমিটেন্স যার জন্য নারীদের ভয়াবহ পরিনিতি শিকার হতে হয়।
বিদেশ ফেরত নারীদেরকে সমাজের মানুষ অবহেলা চোখে দেখে। তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, সমাজের প্রতিনিয়ত হতে হয় অপমান ও লাঞ্চিত। হাজার হাজার ধিক্কার নিয়ে অসহায়ের মত সমাজে বসবাস করতে হয় সেই বিদেশ ফেরত নারী কর্মীদের।
যখন দেখি আমার দেশের খুব সাধারণ একজন নারী বা পুরুষ বিদেশের মাটিতে নিজ উদ্যোগে, সাহস করে, কষ্ট সহ্য করে দাঁড়িয়ে গেছে এবং তাদের আয়ের টাকায় আমার দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরছে তখন বুকটা গর্বে ভরে ওঠে। স্যালুট জানাই আমার দেশের সব অভিবাসী ভাই ও বোনদের। আপনাদের কাছে আমরা ঋণী। কারণ আপনাদের কারণেই বাংলাদেশের রেমিটেন্স টেক্স প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মন্তব্য করুনঃ
মন্তব্য সমূহ (কোন মন্তব্য পাওয়া যায় নি।)