মো. জিয়াউদ্দিন বাবু, বরিশাল: ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে সৌদি আরবে পাচার করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের দায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের তিনটি ধারায় তিন ভাইকে ১৯ বছর এবং এক বোনকে ১৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই চারজনকে ৬ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১১ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় সৌদি প্রবাসী তিন ভাই পলাতক থাকলেও তাঁদের বোন আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পানবাড়িয়া গ্রামের বাবুল হাওলাদারের সৌদি প্রবাসী তিন ছেলে রাশেদ হাওলাদার, রাসেল হাওলাদার ও টিপু হাওলাদার এবং মেয়ে রেশমা বেগম। মামলার বাদী অহিদা খাতুন একই ইউনিয়নের চর আইচা গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।
মামলার বিবরণী থেকে বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান, বাদী ও আসামিরা পূর্বপরিচিত। বাদীর স্বামী শহিদুল ইসলাম পেশায় একজন স্যানিটারি মিস্ত্রি। সৌদি আরবে স্যানিটারি মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করলে ভালো টাকা আয় করা যাবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে শহীদুলকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সৌদি আরব নেওয়ার প্রস্তাব দেয় আসামিরা। প্রস্তাবে রাজি হয়ে ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা দেওয়ার পর ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শহীদুল ইসলামকে সৌদি আরব নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে নিয়ে তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি করা টাকা দিতে না পারায় পরে শহীদুল ইসলামকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় শহীদুলের স্ত্রী অহিদা খাতুন বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে কাউনিয়া থানার পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চার ভাই-বোনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। বিচারক মোট ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চ সহকারী আরও জানান, জরিমানার টাকা আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে রেশমা বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পলাতক তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বিচারক।