গ্রিসে বিমান প্রদর্শনীতে সামরিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ২ পাইলট নিখোঁজ
এথেন্সে বিমান প্রদর্শনী চলাকালে গ্রিক বিমানবাহিনীর এফ-৪ ফ্যান্টম যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত। হাজারো দর্শকের সামনে বিস্ফোরণ ও আগুন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তর বিশ্বব্যবস্থা যে আদর্শবাদ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিশ্বজনীন নিয়মনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তা এক বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শাসনকাঠামো এতদিন যে স্তম্ভগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা এখন বিশ্বরাজনীতিতে বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও কৌশল কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক অবস্থান পশ্চিমা জোট ও প্রথাগত গ্লোবাল গভর্ন্যান্সের দীর্ঘদিনের হিসাব-নিকাশকে আমূল বদলে দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রবর্তিত ধারা বহুপক্ষীয় ঐকমত্যের প্রথাগত কাঠামোর সঙ্গে এক বড় ধরনের বিচ্ছেদ নির্দেশ করে। একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, লেনদেনভিত্তিক (Transactional) জাতীয়তাবাদ এবং দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে নতুন ধারার জন্ম হয়েছে, তা ‘ট্রাম্পবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত।
এই নীতিতে প্রথাগত আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বা বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তের চেয়ে নিজস্ব ভূরাজনৈতিক প্রভাব তৈরি এবং কৌশলগত যোগাযোগব্যবস্থাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সার্বভৌমত্বের শক্তিশালী প্রদর্শন এবং প্রতিষ্ঠানবিরোধী অবস্থানের মাধ্যমে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিমূলেই সরাসরি আঘাত করা হয়েছে।
ট্রাম্পবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বহুপক্ষীয় চুক্তির বদলে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও অর্থনৈতিক কৌশলকে প্রাধান্য দেওয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে এখন মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া অর্থনৈতিক ও শিল্প স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে।
শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতের পুনরুজ্জীবন: স্থানীয় ভারী শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষাশিল্পকে পুনর্গঠিত করা। জ্বালানি খাতের আধিপত্য: বিশ্ব বাজারে বৈশ্বিক জ্বালানি ও শক্তি খাতের ওপর একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা। সুষম বাণিজ্য ও আর্থিক নেতৃত্ব: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাসকরণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র নেতৃত্ব বজায় রাখা।
বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক এই কঠোর মনোভাব বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে এক নতুন ও অনিশ্চিত যুগে নিয়ে যাচ্ছে।