সাহস থাকলে মাঠে আসুন, রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করা হবে: এসএম জিলানী
বিদেশে বসে উসকানি না দিয়ে সাহস থাকলে মাঠেই মোকাবিলা করার জন্য নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী।
ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনীতি অনুশীলন করা সহজ নয় উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এটি একটি কঠিন সাধনা। ভোটের সময় কিংবা দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকেই জিয়ার নাম ব্যবহার করলেও তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন কতটা ধারণ করা হচ্ছে, সেটাই আজ বড় প্রশ্ন।
গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে জিয়া স্মৃতি বইমেলার চতুর্থ দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাবাহিনীতে দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার চায়। আর সেই উপলব্ধির মাধ্যমেই তিনি জনগণের প্রকৃত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানকে একজন সংস্কৃতিমনস্ক মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশাত্মবোধ, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়কে তিনি রাষ্ট্রগঠনের প্রধান উপাদান হিসেবে দেখতেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ ধারণার মাধ্যমে তিনি জাতীয় ঐক্যের মজবুত ভিত্তি গড়ে তোলেন এবং দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
এ সময় জুলাই আন্দোলনের একটি পক্ষের কড়া সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, তাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় ‘হেমায়েতপুরের পাগলাগারদেও এমন কাউকে পাওয়া যাবে না’। একাত্তরের পরাজিত শক্তি বর্তমান সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সরকার আসে-যায়, কিন্তু জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমন করা যায় না। জিয়াউর রহমানের পর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী আদর্শ সবসময় টিকে রয়েছে এবং থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও জ্ঞানার্জনের জন্য বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখতে হবে। জ্ঞান ও আত্মোন্নয়নে বই পড়ার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদল নেতা মো. আমান উল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।