ফরিদপুর: পাট উৎপাদনে দেশজুড়ে খ্যাতি রয়েছে ফরিদপুর জেলার। পাটের প্রধান উৎপাদিত অংশ আঁশ হলেও, আঁশ ছাড়ানোর পর থেকে যাওয়া একসময়ের অবহেলিত পাটকাঠি বা পাটখড়ি এখন দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে এটি এখন কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস ও লাভজনক অর্থকরী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
রান্নার জ্বালানি, পানের বরজ তৈরি এবং ঘরের বেড়া দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল (অঙ্গার) কারখানায় পাটকাঠির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা সংসারের সচ্ছলতা ও বাড়তি আয়ের আশায় অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে পাটকাঠি সংগ্রহ করেন এবং শুকনো পাটকাঠি বাজারে বেশ চড়া দামেই বিক্রি হয়। ফরিদপুরের বিভিন্ন বিল ও গ্রামীণ জনপদ ঘুরে পাটকাঠি সংগ্রহের এমনই কিছু কর্মচাঞ্চল্যের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে।
বিলের মধ্যে জমিয়ে রাখা পাটকাঠি নৌকায় তুলে ঘাটে নিয়ে আসছেন ব্যস্ত কৃষকেরা।
অনেক এলাকায় পাটকাঠি সহজে পরিবহনের জন্য বিলে ভাসিয়ে পাড়ে নিয়ে আসা হয়।
কড়া রোদে পাটকাঠি পুরোপুরি শুকানোর জন্য বিলের মাঝে কিংবা বাড়ির উঠানে বিশেষভাবে মাচা তৈরি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
আঁটি বাঁধা পাটকাঠি স্তূপ করা কিংবা শুকনো পাটকাঠি ভ্যানে তোলার কাজে গ্রামীণ নারী ও তরুণীরাও রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
কৃষকদের এই নিরলস পরিশ্রমে পাট যেমন দেশের সোনালী আঁশের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে, তেমনি পাটকাঠিও গ্রামীণ অর্থনীতিতে যোগ করছে নতুন মাত্রা।