লালমনিরহাট প্রতিনিধি, মোঃ হারুন অর রশীদ
লালমনিরহাটের প্রান্তিক জনপদ থেকে মেধা ও লড়াইয়ের জোরে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া কৃতি শিক্ষার্থীদের জাঁকজমকপূর্ণ নবীনবরণ ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পাবলিকিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অফ লালমনিরহাট সদর (পালস)-এর উদ্যোগে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চান্সপ্রাপ্ত সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি খন্দকার মোঃ ফরিদুল ইসলাম ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ, লালমনিরহাটের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক। এছাড়াও প্রধান অতিথি লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানের প্রতিনিধি হিসেবে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মীর ফয়সাল আলী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ, লালমনিরহাটের প্রভাষক মো. জিয়াউর রহমান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এ.কে.এম ফাহাদ রেদওয়ানের দেওয়া শুভেচ্ছা বক্তব্য এবং সভাপতি খন্দকার ফরিদুল ইসলাম ফাহিমের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রমের সূচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নওরীন রহমান শ্রেয়সী এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ আলদ্বিন হোসেন আহাদের নান্দনিক ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিকূলতা অতিক্রম করে লালমনিরহাটের মতো সীমান্তঘেঁষা জেলার সন্তানরা যেভাবে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছে, তা অত্যন্ত গর্বের। এই কৃতি শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের স্মার্ট ও সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার মূল কাণ্ডারি। তরুণদের কেবল ডিগ্রি অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিকতা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে লালমনিরহাট তথা পুরো দেশের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে নবীন ভর্তি সুযোগপ্রাপ্ত প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। শেষ পর্বে স্থানীয় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।