ইসলাম কি কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান? ‘হাদিসে জিবরাইল’-এর আলোকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থার রূপরেখা
হাদিসে জিবরাইলের আলোকে ইসলাম, ইমান ও ইহসানের ব্যাখ্যা এবং এটি কীভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা তা নিয়ে বিস্তারিত ফিচার। ইসলাম ও জীবন পাতা।
ইসলাম: হেদায়েত আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ দান, যা অর্জনের জন্য মানুষকে আত্মিক ও বাস্তব প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। যে অন্তর সততা, খোদাভীতি ও বিনয় নিয়ে কোরআনের মুখোমুখি হয়, শুধু সে অন্তরই হেদায়েতের আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মানবকুল, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের রোগব্যাধির নিরাময়, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫৭)
কোরআনের আলোয় জীবন আলোকিত করতে হলে হৃদয়ের জমিনকে উপযুক্ত করতে হবে। এর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে—
খোদাভীতি বা তাকওয়া: কোরআনের হেদায়েত লাভের প্রধান শর্ত হলো অন্তরে আল্লাহর ভয় জাগ্রত রাখা। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এটি সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। এটি মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২)
কোরআন অনুধাবনের চেষ্টা: কেবল তোতাপাখির মতো পাঠ না করে কোরআনের প্রতিটি আয়াত নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তবে কি তারা কোরআন নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করে না? নাকি তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?’ (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ২৪)
সত্য গ্রহণের ব্যাকুলতা: সত্য অনুসন্ধানে যে ব্যক্তি বিনয়ী হয়, আল্লাহ নিজ দায়িত্বে তাকে পথ দেখান। এ বিষয়ে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, ‘আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করি।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৬৯)
হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকার ৩ করণীয়:
হেদায়েত লাভ করার চেয়ে তার ওপর অবিচল থাকা আরও বেশি চ্যালেঞ্জের। এই পথে অটল থাকার জন্য তিনটি আমল অত্যন্ত জরুরি:
১. আল্লাহর নির্দেশ মেনে আমল করা: কোরআনে বর্ণিত আল্লাহর নির্দেশাবলি বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করলে আল্লাহ হেদায়েত আরও বাড়িয়ে দেন।
২. একনিষ্ঠ চিত্তে প্রার্থনা করা: হেদায়েতের ওপর অবিচল থাকতে বিনম্র চিত্তে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে। কোরআনে মুমিনদের শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক, সরল পথ দেখানোর পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত করবেন না।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮)
৩. নেককার মানুষের সাহচর্য: অসৎ সঙ্গ বর্জন করে সৎ মানুষের সান্নিধ্য মানুষকে সঠিক পথে রাখতে সাহায্য করে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ মেশক বিক্রেতা ও কর্মকারের হাপরের ন্যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১০১)