বিতর্কিত গোল ও লাল কার্ডের ডার্বিতে ইউনাইটেডকে হারাল ১০ জনের ম্যান সিটি
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ফোডেনের লাল কার্ড ও হালান্ডের বিতর্কিত গোলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে ম্যানচেস্টার সিটি।
স্পোর্টস: শক্তি, সামর্থ্য কিংবা ফিফা র্যাঙ্কিং—সব সূচকেই শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার চেয়ে বহু যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশ। তার ওপর একাদশে মূল খেলোয়াড়দের বদলে একাধিক নতুন মুখ নিয়ে মাঠে নামার মাশুল গুণতে হলো বাংলাদেশকে। দুর্বল রক্ষণ ও এলোমেলো ফুটবলের প্রদর্শনীতে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে এশিয়ান কাপে চরম হতাশাজনক সূচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) চীনের নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লজ্জাজনক এই হারের মাধ্যমে নিজেদের আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত নতুন রেকর্ড গড়ল সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের বাংলাদেশ। এর আগে দলের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের রেকর্ড ছিল ৯-০।
ম্যাচের শুরু থেকেই পুরোপুরি দিশেহারা দেখা যায় বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে। একের পর এক ভুল পাস এবং বোঝাপড়ার অভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দল:
তৃতীয় মিনিটে ভিএআরের (VAR) কল্যাণে উত্তর কোরিয়ার প্রথম গোলটি অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও রক্ষা পাওয়া যায়নি। ১২ মিনিটের মাথায় টানা ৩ গোল ও ২০ মিনিটের মধ্যেই ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় গোলটির সময় ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার ক্লিয়ার না করে পা সরিয়ে নেন এবং গোলরক্ষক মিলি আক্তার জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকেন। এছাড়া গোলরক্ষক মিলির পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে প্রবেশের ঘটনাও ঘটে।
১৮ মিনিটে ৪ গোল খাওয়ার পর ২৩তম মিনিটে বাধ্য হয়ে অর্পিতা বিশ্বাসকে তুলে শিউলি আজিমকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। তবে প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিটে আবার ডিফেন্সের ভুলে ৩টি গোল হজম করে বাংলাদেশ।
টুর্নামেন্ট ও ভেন্যু এশিয়ান কাপ, নাগাই স্টেডিয়াম, চীন।
ফলাফল বাংলাদেশ ০ – ১০ উত্তর কোরিয়া।
প্রথমার্ধের স্কোর ০ – ৭ (উত্তর কোরিয়া এগিয়ে)।
দ্বিতীয়ার্ধের স্কোর ০ – ৩।
ঐতিহাসিক রেকর্ড বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ড (পূর্ববর্তী রেকর্ড ৯-০)।
বিরতির পরপরই দলের ছক ও খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন পিটার বাটলার। সুরভি আক্তার আরফিন, আইরিন খাতুন ও মোসাম্মাৎ সুলতানাকে তুলে মাঠের লড়াইয়ে নামানো হয় অভিজ্ঞ শামসুন্নাহার জুনিয়র, মনিকা চাকমা ও আক্রমণভাগের তারকা ঋতুপর্ণা চাকমাকে।
এই পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ দলে কিছুটা গতি ও কৌশলগত শৃঙ্খলা ফিরে আসে। ফলে প্রথমার্ধে যেখানে ৭ গোল হজম করতে হয়েছিল, সেখানে দ্বিতীয়ার্ধে বিরতির পর ৫১, ৬০ এবং ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে বাকি ৩টি গোল হজম করে ১০ গোলের বিশাল পরাজয়ে মাঠ ছাড়ে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।