নাকভিকে প্রত্যাখ্যান করে ট্রফি নেয়নি ভারত, আক্ষেপ নেই বিসিসিআইয়ের
পাকিস্তানের সাথে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মহসিন নাকভিকে প্রত্যাখ্যান করে টানা দুই বছর এশিয়া কাপ ট্রফি নেয়নি ভারত। বিসিসিআই সচিবের প্রতিক্রিয়া।
খেলাধুলা: রংপুর শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরের গ্রাম পালিচড়া। দেড় দশক ধরে বয়সভিত্তিক এবং জাতীয় স্তরে নারী ফুটবলে দেশের শীর্ষ সাফল্য এনে দেওয়া এই গ্রামটির পরিচয় এখন সারাদেশে ‘ফুটবল কন্যাদের গ্রাম’। ২০২২ সালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনের কারিগর ছিলেন এই পালিচড়ার মেয়েরাই। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত সাফল্য আনলেও বর্তমানে সরকারি বরাদ্দের অভাব, ঝুঁকিপূর্ণ মাঠ ও মারাত্মক খাদ্যসংকটে ধুঁকছে রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি।
মেয়েদের উৎসাহ দিতে ২০২২ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পৌনে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় পালিচড়া স্টেডিয়াম। পালিচড়া এম এন উচ্চবিদ্যালয় ও মজিদা খাতুন কলেজের মাঠে নির্মিত এই স্টেডিয়ামটি পরিচালনা করে রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং স্থানীয়ভাবে দেখভাল করে ‘সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব’।
বর্তমানে রংপুরের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক কিশোরী এখানে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ডরমিটরিতে থাকে ২৫ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু বাস্তব চিত্র করুণ:
খেলোয়াড়দের খাবারের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। সদ্যপুস্কুরিনী যুব স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি ও কোচ মিলন মিয়া নিজের পকেটের টাকায় ও নিজের জমিতে শাকসবজি ফলিয়ে কিশোরীদের খাবারের জোগান দেন।
সরকারি বরাদ্দ না থাকায় গত দুই বছরে স্টেডিয়ামের বিদ্যুৎ বিল বাকি পড়েছে ৬৫ হাজার টাকা। বিকল্প কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। গরমের দিনে অনুশীলনের ব্যায়ামাগার (জিমনেসিয়াম) কিংবা গোসলের স্বাভাবিক সুযোগ-সুবিধাও মেলে না।
মাঠ উঁচু-নিচু ও যত্নহীন হওয়ায় খেলোয়াড়দের চোট পাওয়ার চরম ঝুঁকি থাকে। সীমানাপ্রাচীর নিচু হওয়ায় মাঠে প্রায়শই বহিরাগত ও গবাদিপশু ঢুকে অনুশীলনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
স্থাপনা পালিচড়া স্টেডিয়াম (ব্যয়: পৌনে ৬ কোটি টাকা)।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ শতাধিক কিশোরী (৮ থেকে ২০ বছর বয়সী)।
সাম্প্রতিক সাফল্য নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে চ্যাম্পিয়ন, জেএফএ U-14 শিরোপাজয়ী (মূল একাদশের ৮ জনই পালিচড়ার)।
সেনাবাহিনীর চাকরি এ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর পদে নিয়োগ পেয়েছেন ১২ জন নারী ফুটবলার।
২০১১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে রানারআপ এবং ২০১২ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় পালিচড়ার পথচলা। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে ভারতকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ যে শিরোপা জিতেছিল, সেই দলের মূল ভিত্তি ছিলেন পালিচড়ার তিন কন্যা—লাবনী আক্তার, আর্শিতা জাহান ও আঁখি আক্তার।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে সাফজয়ী জাতীয় নারী দলে ১০ নম্বর জার্সি পরে আলো ছড়ান পালিচড়ার সিরাত জাহান। এ পর্যন্ত এই গ্রামের ১০ জন খেলোয়াড় বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিভিন্ন নামীদামী ক্লাবে (যেমন: আর্মি স্পোর্টস ক্লাব, আইএম ১০ এফসি, ঢাকা ওয়ারিয়র্স) খেলছেন অন্তত ১৫ জন তারকা ফুটবলার।
পালিচড়া স্টেডিয়ামের সংকট নিয়ে স্থানীয় কোচ মিলন মিয়া উপজেলা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ধর্না দিলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
এ বিষয়ে রংপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লোকমান হোসেন নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ফুটবলারদের দুর্ভোগ ও চাহিদার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য শামীম খান ও জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, অর্থাভাব ও পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাবে স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। তবে পর্যাপ্ত সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উদীয়মান নারী ফুটবলাররা দেশের জন্য আরও বড় আন্তর্জাতিক সাফল্য বয়ে আনবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।