বিজিবিতে ১০৬তম ব্যাচে সিপাহী (জিডি) পদে চাকরির বিশাল সুযোগ: আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) ১০৬তম ব্যাচে সিপাহী (জিডি) পদে পুরুষ ও নারী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু আবেদন।
বিশেষ প্রতিবেদন: শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলাকে বিভক্তকারী জয়ন্তী নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে চরম যোগাযোগ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই অঞ্চলের কয়েক লাখ বাসিন্দা। বিকল্প হিসেবে মাদারীপুর জেলা হয়ে অতিরিক্ত দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন এই অঞ্চলের মানুষ। এতে বরিশাল ও শরীয়তপুরের মধ্যকার সড়ক যোগাযোগের সুফল থমকে আছে বছরের পর বছর।
বিশেষ করে বরিশালের মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সাধারণ মানুষ, রোগী ও ব্যবসায়ীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে এই নদী পারাপার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাব অনুযায়ী, জয়ন্তী নদীর ওপর ব্রিজটি নির্মিত হলে সড়কপথে যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে:
বরিশাল থেকে সরাসরি ঢাকার সড়কপথের দূরত্ব কমবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার।
শশরীয়তপুর জেলা শহর থেকে বরিশাল জেলা শহরের দূরত্ব কমবে ১০ কিলোমিটার।
শরীয়তপুর শহর থেকে মুলাদী উপজেলা শহরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার।
গোসাইরহাট সদর থেকে বরিশাল সদরের দূরত্ব কমবে ৩০ কিলোমিটার।
মুলাদী সদর থেকে শরীয়তপুর সদরের দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার।
জয়ন্তী নদী সেতু বাস্তবায়িত হলে যে অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিবর্তন আসবে।
দূরত্ব হ্রাস ঢাকা-বরিশাল রুট ৩৫ কিমি, মুলাদী-শরীয়তপুর ৩৫ কিমি ও গোসাইরহাট-বরিশাল ৩০ কিমি কমে যাবে।
সরাসরি সুফলভোগী বরিশালের মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ এবং শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার লাখো মানুষ।
অর্থনৈতিক প্রভাব কৃষিপণ্য ও ইলিশ মাছ দ্রুততম সময়ে সরাসরি ঢাকায় বাজারজাতকরণের সুবিধা।
গোসাইরহাটের আবুপুরা এবং মুলাদীর মৃধারহাট দুই প্রান্তেই চমৎকার পাকা সড়ক থাকা সত্ত্বেও মাঝের মাত্র প্রায় দুই কিলোমিটার নদীপথ পার হতে একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা বা ট্রলার।
২০১৫ সালে আবুপুরা-মৃধারহাট নৌপথে ফেরি সার্ভিস চালু করা হলে দুটি প্রধান শহরের বাস চলাচল শুরু হয়েছিল। তবে দু’বছরের মাথায় অজ্ঞাত কারণে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় পুরো যাতায়াত ব্যবস্থা আদিম ট্রলার ও নৌকা পারাপারে ফিরে যায়। বর্ষা ও বৈরী আবহাওয়ায় এই পারাপার চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মুলাদীর তালুকদারহাটের মালয়েশিয়াপ্রবাসী দেলোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“উড়োজাহাজ ও আধুনিক গাড়ি পার হয়ে বাড়ির কাছাকাছি এসে আবার নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। রাস্তার দুই প্রান্তেই পাকা পথ আছে, সেতুটি হলে এই গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি পাল্টে যাবে।”
শরীয়তপুর জজকোর্টের আইনজীবী ও নদী পরিব্রাজক দলের সভাপতি নুরুজ্জামান শিপন উল্লেখ করেন, এই অঞ্চলের মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও মৎস্যসম্পদ। ঢাকার সাথে সরাসরি সংযোগ হলে তরকাঝরকা কৃষিপণ্য ও মাছের সঠিক মূল্য পাবেন চাষিরা।
প্রাক্কলিত ব্যয় ও প্রকল্প প্রস্তাবনার বর্তমান অবস্থা
যোগাযোগ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে এলজিইডি ইতোমধ্যে একটি মহা-পরিকল্পনা তৈরি করেছে:
১ হাজার ৪৮০ মিটার (১.৪৮ কিলোমিটার)।
১ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা।
প্রকল্প প্রস্তাবটি (DPP) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।
এলজিইডির মুলাদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়াউল হক জানান, জয়ন্তী নদীতে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেখান থেকে প্রাথমিক অনুমোদন শেষে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে। একনেকে পাস হলেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোর মুখ দেখবে।