স্ত্রীকে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা ফ্রিজে রাখা রামানুজ পুলিশের গাড়ি থেকে লাফিয়ে নিহত
আসামের গৌহাটিতে স্ত্রীকে হত্যার পর ফ্রিজে মাথা রাখা আসামি রামানুজ গোস্বামী পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে মারা গেছেন। পড়ুন বিস্তারিত।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক: সাসেক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের নরসিংদী অংশে একটি মাত্র ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) প্রাথমিক প্রস্তাব পুনর্মূল্যায়ন করে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারের অবকাঠামোগত সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ব্যয় কমেছে ১১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৪ টাকা। নরসিংদী অংশে এমন আরও সাতটি এলএ কেস চালু থাকায় এখন জোর প্রশ্ন উঠেছে—পুরো প্রকল্পের হিসাব সঠিকভাবে পাশাপাশি রাখলে মোট কত জমি এবং কত কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ বাঁচানো সম্ভব?
দৈনিক যুগান্তর-এর অনুসন্ধানী নথি বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) শুরুতে এলএ কেস ০৯/২১-২২-এর অধীনে ১৪ একর ২৬ দশমিক ৩৮ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে জমির প্রয়োজনীয়তা ও যৌথ তদন্তের ফিল্ডবহি নিয়ে অসঙ্গতি দেখা দিলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের পর প্রথম দফাতেই ৩ একর ১২ দশমিক ৯২ শতক জমি বাদ পড়ে। ফলে প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ একর ১৩ দশমিক ৪৬ শতক।
পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই ও অ্যালাইনমেন্ট সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে মাত্র ৯ একর ৮৫ দশমিক ১৫ শতক জমি অধিগ্রহণের আওতায় রাখা হয়।
প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় চূড়ান্তভাবে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি বাদ পড়ে, যার ফলে শুধু একটি মামলাতেই সম্ভাব্য অবকাঠামোগত ক্ষতিপূরণ ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে ১১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৪ টাকা।
সওজ-এর প্রাথমিক প্রস্তাবিত জমি ১৪ একর ২৬.৩৮ শতক।
তদন্তে প্রথম দফায় বাদ ৩ একর ১২.৯২ শতক।
চূড়ান্ত অধিগ্রহণকৃত জমি ৯ একর ৮৫.১৫ শতক (মোট বাদ প্রায় ৪.৫ একর)।
বাঁচানো অবকাঠামোগত ক্ষতিপূরণ ১১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫,৬৩৪ টাকা।
একটিমাত্র মামলায় ১১০ কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য অপচয় রোধ হওয়ায়, প্রকল্পের নরসিংদী অংশের বাকি সাতটি এলএ কেসের নথিপত্র পূর্ণাঙ্গ পুনর্মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সবকটি এলএ কেস সঠিকভাবে ছানবিন করলে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ রক্ষা পাবে।
বিষয়টি নিয়ে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান কেয়া জানান, তিনি যোগদানের পর থেকেই যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থার তদন্ত কাজ চলছে।
“তদন্ত কমিটি যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে, সেগুলোর ভিত্তিতে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি টাকা অপচয়ের কোনো সুযোগ নেই এবং একই জমি পুনরায় অধিগ্রহণের আওতায় নেওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।”
এখন সকলের দৃষ্টি ওই বাকি সাতটি এলএ কেসের পূর্ণাঙ্গ হিসাবের দিকে, যেখানে প্রকৃত তদারকি ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পের বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ অপচয় রোধ সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।