সৌদি আরবের বিমান ঘাঁটিতে ডজন ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুথিদের
সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বিশাল ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী।
আন্তর্জাতিক: ভারতের আসামের গৌহাটি শহরে নিজের স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বিচ্ছিন্ন মাথা ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত আসামি রামানুজ গোস্বামী (৩০) পুলিশের চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে নিহত হয়েছেন।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভোরে চিকিৎসা পরীক্ষা শেষে গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ) থেকে হাতিগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় নারকাসুর পাহাড় এলাকায় পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি করে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দেন তিনি। এতে একটি গভীর খাদে পড়ে গুরুতর আহত হলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর গৌহাটির একটি ফ্ল্যাটে নিজের স্ত্রী রিয়া তালুকদার (২৫)-কে নির্মমভাবে হত্যা করেন রামানুজ। হত্যার পর ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজে রাখা কালো পলিথিনের ভেতর থেকে রিয়ার বিচ্ছিন্ন কাটা মাথা ও আঙুল উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা এবং একাধিক খালি মদের বোতল উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর রামানুজ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাকে সাত দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ড ৩ সেপ্টেম্বর, গৌহাটির একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে হত্যা ও অঙ্গচ্ছেদ।
মূল আলামত ফ্রিজে পলিথিনে মোড়ানো কাটা মাথা, আঙুল ও রক্তমাখা দা উদ্ধার।
আত্মসমর্পণ ও রিমান্ড ৬ সেপ্টেম্বর আত্মসমর্পণ, পরবর্তীতে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ড।
অভিযুক্তের বিনাশ ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে খাদে পড়ে মৃত্যু।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রামানুজ স্বীকার করেন যে, স্ত্রীর পরকীয়া ও অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকেই মদ্যপ অবস্থায় তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে আলামত পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে তার মধ্যে কোনো ধরনের অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ দেখা যায়নি।
তিনি পুলিশকে জানান যে, জেল থেকে জামিনে বের হতে পারলে স্ত্রীর কথিত সেই প্রেমিককেও তিনি হত্যা করবেন।
অন্যদিকে, নিহত রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, রামানুজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং নিজের একাধিক শারীরিক অসুস্থতার কথা গোপন রেখে বিয়ে করেছিলেন। এছাড়া ২০১৯ সালে একটি আর্থিক প্রতারণা মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। আসাম পুলিশ এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।