গোলখরায় ভিনিসিয়ুস, মাদ্রিদ ডার্বিতে ঘুরে দাঁড়ানোর অপেক্ষা
নতুন মৌসুমে গোলের সামনে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এলচের বিপক্ষে হতাশার পর সামনে মাদ্রিদ ডার্বি।
ক্রীড়া: বার্সেলোনা মানেই যেন গোলের উৎসব! চলতি মৌসুমে হানসি ফ্লিকের দল মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক গোল পাঠাচ্ছে। এবার সেই গোলবন্যায় ভেসেছে রাসিং সান্তান্দারও। রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিক ও জোয়াও কানসেলোর জোড়া অসাধারণ গোলে ৭-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছে বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল কাতালানরা। অষ্টম মিনিটেই এগিয়ে যায় তারা। লামিন ইয়ামালের আড়াআড়ি পাস পেয়ে প্রায় ২০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জালে পাঠান কানসেলো। ক্রসবার ছুঁয়ে জালে জড়ানো সেই গোলটি ছিল দেখার মতো।
এরপর পেদ্রো ফেলিপের ফাউলে পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। স্পটকিক থেকে নিচের ডান কোণে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া।
৩০তম মিনিটে মাগেত গুয়ে গোল করে রাসিং সান্তান্দারকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পরই আবার ব্যবধান বাড়ায় বার্সা। দূরপাল্লার আরেকটি দুর্দান্ত শটে ওপরের বাঁ কোণ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন কানসেলো।
বিরতির আগেই দ্বিতীয় গোল পেয়ে যান রাফিনিয়া। দানি ওলমোর চমৎকার পাস থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধে আরও একবার পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা। রাফিনিয়া নিজে পেনাল্টি না নিয়ে লামিন ইয়ামালকে সুযোগ দেন। তবে গোলরক্ষক আগিরেজাবালা ইয়ামালের শট ঠেকিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ভয়চেখ শেজনির ভুলের সুযোগ নিয়ে ইয়াসির জাবিরি গোল করে রাসিং সান্তান্দারের ব্যবধান কমান। কিন্তু এর মাত্র দুই মিনিট পর আদেয়েমিকে ফাউল করায় আবার পেনাল্টি পায় বার্সা। এবার আর ভুল করেননি রাফিনিয়া। স্পটকিক থেকে গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।
এরপর গ্যাব্রিয়েল জেসুস ওপরের ডান কোণে শট নিয়ে আরও একটি গোল যোগ করেন। ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে আদেয়েমির পাস থেকে ফার্স্ট-টাইম শটে গোল করে বার্সেলোনার সাত গোলের জয় নিশ্চিত করেন ইয়ামাল।
এই জয়ের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে লা লিগায় টানা ছয়টি জয় পেল বার্সেলোনা। এই শতাব্দীতে ষষ্ঠবারের মতো লিগের প্রথম ছয় ম্যাচেই জয় দিয়ে মৌসুম শুরু করল কাতালান ক্লাবটি। এর আগের পাঁচবারের মধ্যে চারবারই মৌসুম শেষে লিগ শিরোপা জিতেছিল তারা।
গোলের দিক থেকেও দুর্দান্ত অবস্থানে ফ্লিকের দল। ছয় ম্যাচে বার্সেলোনা করেছে ২৮ গোল, যা লা লিগায় এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে তাদের গোল ১১টি বেশি।
বার্সেলোনার দুর্দান্ত আক্রমণভাগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাফিনিয়া। ফ্লিকের অধীনে ফলস নাইন হিসেবে খেলেও দুর্দান্ত সাফল্য পাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। ছয় ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়টি, সঙ্গে রয়েছে তিনটি অ্যাসিস্ট।
অন্যদিকে, গোলের দেখা পেয়েছেন ইয়ামালও। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো টানা চারটি লা লিগা ম্যাচে গোল করলেন স্প্যানিশ তরুণ তারকা। চলতি মৌসুমে লিগে তার মোট গোল এখন সাতটি।
কানসেলোর দুই দূরপাল্লার গোলও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দুটি গোলের সম্মিলিত এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল মাত্র ০.০৪৭—যা গোল দুটির অসাধারণ মানেরই ইঙ্গিত দেয়। পুরো ম্যাচে বার্সেলোনার xG ছিল ৬.৬৫, বিপরীতে রাসিং সান্তান্দারের ১.৮৬।