চীন-পাকিস্তান যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান করল ভারত
অবৈধভাবে দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত চীন-পাকিস্তান যৌথ সীমান্ত কমিশনকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
আন্তর্জাতিক: ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় যুদ্ধাপরাধের উপাদান রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্য অনুসন্ধানী মিশন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালানো দুটি হামলা নিয়ে তদন্ত শেষে মিশনটি বলেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
জাতিসংঘের স্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরান বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
তদন্তকারীরা বলেছেন, ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ পাওয়া গেছে।
ইরানি কর্মকর্তাদের হিসাবে, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিলেন স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের তদন্তে বিদ্যালয়টিকে স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটিকে সামরিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল—এমন কোনো প্রমাণও তদন্তকারীরা পাননি।
মিশনের মতে, হামলার আগে লক্ষ্যবস্তুসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ বা যাচাই করা হয়নি। ফলে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনাটিকে নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর আগে বিভিন্ন তদন্ত ও সংবাদপ্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য ছিল কাছাকাছি একটি ইরানি সামরিক স্থাপনা। তবে হামলার সময় বিদ্যালয়টি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
জাতিসংঘের মিশন ইরানের লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রেও হামলার ঘটনা তদন্ত করেছে। তদন্ত অনুযায়ী, হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন।
মিশনটি এই হামলাকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল।
তবে লামার্দের হামলার দায় অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) মার্চে জানিয়েছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি লামার্দ শহর বা এর ৩০ মাইলের মধ্যে মার্কিন বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি।
এর আগে বিভিন্ন অস্ত্রবিশেষজ্ঞ ও ভিজ্যুয়াল বিশ্লেষণে লামার্দের হামলায় মার্কিন তৈরি প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (PrSM) ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল। তবে এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের বক্তব্য ভিন্ন।
নতুন প্রতিবেদনে ইরানে সংঘাতের সময় বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার পাশাপাশি দেশটির অভ্যন্তরে মানবাধিকার পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনটি এখন মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে।