চীন-পাকিস্তান যৌথ সীমান্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান করল ভারত
অবৈধভাবে দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত চীন-পাকিস্তান যৌথ সীমান্ত কমিশনকে সম্পূর্ণ বেআইনি ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
আন্তর্জাতিক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি জোরালোভাবে ছড়িয়ে পড়লেও এর কোনো ভিত্তি মেলেনি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন বা ভারত কোনো দেশের সরকারই শির অসুস্থতা, স্ট্রোক বা হাসপাতালে ভর্তির খবর নিশ্চিত করেনি। মূলত এক্স (সাবেক টুইটার)-এ নিষিদ্ধ ঘোষিত চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান ও চীনা বিরোধী নেতা ওয়ানজুন শিয়ে এই দাবি প্রচার করেছিলেন। পরবর্তীতে তার ওই পোস্টে কমিউনিটি নোট যুক্ত করে জানানো হয় যে, পোস্টের তথ্য বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না।
গত ১২ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শি জিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ছাড়াও তিনি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসনে ব্রিকস দেশগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং আগামী বছর ১৯তম ব্রিকস সম্মেলন চীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেন।
তবে সম্মেলনের দিন রাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে শি জিনপিংয়ের অনুপস্থিতি এবং এর আগে মোদির সঙ্গে তাঁর একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, তিনি ব্রিকস সম্মেলন চলাকালে জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জরুরি চিকিৎসার জন্য বেইজিংয়ের ৩০১ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এর বিপরীতে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নয়াদিল্লিতে নির্দিষ্ট কর্মসূচি শেষ করে শি জিনপিং গত রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে নিরাপদে ফিরেছেন। তাঁর সঙ্গে কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর স্থায়ী কমিটির সদস্য কাই শি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই একই বিমানে বেইজিং ফেরেন। সরকারি কোনো সূত্র বা সংবাদমাধ্যমে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা হাসপাতালে ভর্তির কথা উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি কোনো সরকারবিরোধী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতার ছড়ানো অপ্রমাণিত তথ্যের ভিত্তিতে এই গুজবের সৃষ্টি হয়েছে, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।