তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো এক লাখের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর শতায়ু মানুষের এই সংখ্যা রেকর্ড ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ হাজার ৯১৪ জন বেশি। টানা ৫৬ বছর ধরে দেশটিতে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, এই শতায়ুদের মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশই নারী। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাপানিদের এই দীর্ঘায়ুর পেছনে একক কোনো কারণ নেই বলে মনে করছেন গবেষকরা। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা। ঐতিহ্যগতভাবে জাপানি খাদ্যতালিকায় মাছ, শাকসবজি ও ভাতের আধিক্য থাকে এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় সেখানে স্থূলতার হার বেশ কম। পাশাপাশি, নিয়মিত হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং গণপরিবহন ব্যবহারের মতো শারীরিক সক্রিয়তা তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। এছাড়া দেশটির সার্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করায় মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দীর্ঘায়ুর এই অর্জনের আড়ালে জাপানের সামনে বড় আকারে দেখা দিয়েছে এক তীব্র জনমিতিক সংকট। একদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও অন্যদিকে জন্মহার নেমে এসেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বর্তমানে জাপানের প্রায় প্রতি ১০ জন বাসিন্দার মধ্যে তিনজনের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, যা ২০৭০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছর জাপানে ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা যেখানে ৮ লাখের বেশি ছিল, সেখানে জন্ম নিয়েছে মাত্র ৭ লাখ শিশু। ২০২৫ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার রেকর্ড ১ দশমিক ১৪-এ নেমে এসেছে, যা একটি স্থিতিশীল জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২ দশমিক ১ হারের তুলনায় অনেক কম। দেরিতে বিয়ে, অনিশ্চিত চাকরি এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে তরুণদের জন্য পরিবার গঠন কঠিন হয়ে ওঠায় জন্মহার কমতির দিকে রয়েছে।
কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দ্রুত কমে যাওয়ায় এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সরকারি অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে শ্রমিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করছে। জাপান সরকারের পক্ষ aম থেকে জন্মহার বাড়াতে শিশুভাতা, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ বিভিন্ন প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পতনের ধারা এখনও বদলানো সম্ভব হয়নি। বিশ্বজুড়ে বার্ধক্যের হার বৃদ্ধির এই প্রবণতা দেখা দিলেও, জাপানের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর এই দ্রুত বৃদ্ধিকরণ ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।