তেহরানে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন লাখো মানুষ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে তেহরানে ‘জানফাদা-ই-ইরান’ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্তর্জাতিক: রাশিয়ায় সুইস খাদ্যপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেসলে ও ফরাসি খুচরা বিক্রেতা অশাঁনের স্থানীয় সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নিয়েছে মস্কো। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর রুশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সই করা এক ডিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির রাশিয়ায় থাকা সম্পদ ও শেয়ার মস্কোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হয়। তবে এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকানা আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রের হাতে চলে গেছে—এমনটি বলা হয়নি।
শুক্রবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নেসলে ও অশাঁন ‘বন্ধুত্বহীন দেশের’ প্রতিষ্ঠান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে এসব দেশের সক্রিয় সম্পৃক্ততাও সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ।
কিটক্যাট ও নেসক্যাফের উৎপাদক নেসলে জানিয়েছে, তারা রুশ সরকারের সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনা করছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবছে। প্রতিষ্ঠানটির রাশিয়ায় ছয়টি কারখানা রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭ হাজার মানুষ কাজ করেন।
এক বিবৃতিতে নেসলে জানিয়েছে, নিজেদের অধিকার রক্ষা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাশিয়ায় নেসলের কার্যক্রম যুদ্ধ শুরুর পর উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ, বিজ্ঞাপন এবং কিছু পণ্যের বিক্রি ও সরবরাহ কমিয়ে এনেছে। তবে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
ফরাসি খুচরা বিক্রেতা অশাঁন রাশিয়ায় খাবার, পোশাক, গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২৩০টি দোকান এবং অনলাইন ব্যবসা রয়েছে। কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার।
ডিক্রির বিষয়ে অশাঁন রুশ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর তারা বিস্তারিত মন্তব্য করবে। আপাতত তাদের দোকান ও অন্যান্য কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর বহু কোম্পানি রুশ বাজার থেকে সরে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। একই সময়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ সাময়িক প্রশাসনের অধীনে নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায় মস্কো।
এর আগে ড্যানোন ও কার্লসবার্গের মতো পশ্চিমা কোম্পানির রুশ ব্যবসাতেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এসব ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে স্থানীয় ক্রেতার কাছে সম্পদ বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ ডিক্রিতে নেসলে ও অশাঁনের পাশাপাশি সাবেক লেরয় মার্লিনের রুশ ব্যবসা লেমানা প্রো এবং ফরাসি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান এফএম লজিস্টিকের কয়েকটি রুশ ইউনিটও এলইভি ম্যানেজমেন্টের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ায় থাকা পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর ওপর মস্কোর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে রুশ বাজার ছাড়তে নানা বিধিনিষেধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, আবার যারা থেকে যাচ্ছে তাদের সম্পদও সাময়িক প্রশাসনের আওতায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।