২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময় শেষ ২৪ সেপ্টেম্বর
২০২৭ সালের হজের চূড়ান্ত নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের পর আর নিবন্ধনের সময় বাড়ানো হবে না।
জাতীয়: জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিচারিক প্যানেলের স্বাক্ষরের পর ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ৩০ জুন আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তিনটি সাজা একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে তাকে। পাশাপাশি দুটি অভিযোগে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রকাশিত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে ইনুর বিরুদ্ধে আনা ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩ নম্বর অভিযোগে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে আটক ও নির্যাতনের জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগটি প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছে।
৬ নম্বর অভিযোগে ১৪ দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইনুর ভূমিকার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগেও তার দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ নম্বর অভিযোগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগও প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে, ইনুর বিরুদ্ধে আনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে ২ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪ দলীয় জোটের সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সেটি বাস্তবায়নে ইনুর নির্দেশ, প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগ ছিল। ট্রাইব্যুনাল এ অভিযোগ প্রমাণিত মনে করেনি।
৪ নম্বর অভিযোগে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা মোতায়েন ও হেলিকপ্টার থেকে বোমা হামলার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়। ৫ নম্বর অভিযোগে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে উসকানি এবং হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনকে সমর্থনের অভিযোগ ছিল। এ দুটি অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি।
৮ নম্বর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে আন্দোলনকারী ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন—এই ছয়জনকে হত্যায় নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
একই অভিযোগে সারা দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও ছিল। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনুকে এ অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। প্রসিকিউশন সূত্র অনুযায়ী, ইনুর সাজা বাড়ানোর বিষয়ে আপিলের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৩০ জুন রায় ঘোষণার সময় আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে ইনুকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। পৃথকভাবে ১০ বছর করে সাজা হলেও সেগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হওয়ায় কার্যকর কারাদণ্ডের মেয়াদ ১০ বছর।
এদিকে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে পৃথক মামলার বিচার কার্যক্রমও চলছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।