ইরানকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহে আইএমইসি করিডোরে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন
ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা আইএমইসিতে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতা অর্জনের জন্য ইরানের শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তাঁর মতে, জ্ঞান, বিশ্বাস ও নৈতিকতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘লোহার ঢাল’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানে নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় চালুর সময় দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের উদ্দেশে দেওয়া ওই বার্তায় তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মোজতবা খামেনি বলেন, আধিপত্যবাদী শক্তির বর্বরতার সময়ে জ্ঞান, খোদাভীতি ও নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত শক্তি ইস্পাত-কঠিন ঢাল ও তীক্ষ্ণ তলোয়ারের মতো কাজ করতে পারে। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার সময় জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন এবং পরিবার, সহপাঠী ও সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার পরামর্শ দেন তিনি।
ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার পরিধি বাড়ানোরও আহ্বান জানান খামেনি। একই সঙ্গে সমালোচনামূলক চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও ফারসি ভাষা সংরক্ষণের আহ্বান জানান ইরানের নেতা। একই সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতীকগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা, সচেতনতা ও সক্ষমতা অর্জনের ওপর জোর দেন।
সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যাপকদের স্মরণ করার আহ্বান জানান মোজতবা খামেনি। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু হলেও কিছু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যাপকের অনুপস্থিতি অনুভূত হবে।
ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ২৯৬ জন ইরানি শিক্ষার্থী এবং ৬৫ জনের বেশি শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
এর মধ্যে হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন পরে ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে ‘যুক্তিসংগত ভিত্তি’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে; যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কথা উল্লেখ করে খামেনি বলেন, এ শোক মানুষকে ভালো-মন্দ এবং সত্য-মিথ্যার মধ্যকার সংগ্রামের প্রকৃতি নিয়ে ভাবতে পরিচালিত করবে।
শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষিত করার ভূমিকার প্রশংসা করেন খামেনি। তাঁদের অবদানের আরও স্বীকৃতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগের প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী ইরানকে রক্ষা করেছেন, তাঁদের নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া তরুণদের জন্য উদাহরণ হিসেবে অনুসরণ করার আহ্বানও জানান তিনি।
নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অধ্যাপকদের অভিনন্দন জানিয়ে খামেনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্ম বিজ্ঞান, শিক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নে আরও সাফল্য অর্জন করবে।