ইরানকে পাশ কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহে আইএমইসি করিডোরে ট্রাম্পের জোরালো সমর্থন
ইরান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা আইএমইসিতে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজের মধ্যে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা দেশটির আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনে আয়োজিত কর্মসূচিতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, গাজা যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলনের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন ব্যবহারের বিষয় তুলে ধরেন তারা।
‘আমেরিকানস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ (এজেপি অ্যাকশন) আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্য থেকে ৩০০ জনের বেশি মানুষ অংশ নেন। তারা কংগ্রেসের ১০০টির বেশি আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন দাবি ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।
ভার্জিনিয়ার ১৯ বছর বয়সী জেনা এসচেইক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বলেন, তারা মার্কিন নাগরিক হিসেবে নিজেদের পরিচয় নিয়ে গর্বিত। তবে তাদের করের অর্থ যুদ্ধে ব্যয় হোক, তা তারা চান না।
ওহাইও থেকে আসা ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন শেখও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে যাওয়ার কথা জানান। এসব আইনপ্রণেতা ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন বলে এজেপি অ্যাকশনের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা উল্লেখ করেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের জন্য ২৮০ কোটি ডলারের একটি বড় অস্ত্র প্যাকেজ প্রস্তুত করছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত প্যাকেজে হাজার হাজার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যাকেজে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭—দুই ধরনের ২ হাজার পাউন্ডের বোমা থাকার কথা রয়েছে। আরও ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেড থাকার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হওয়া অস্ত্র সরবরাহ নয়; কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং কংগ্রেসে এ নিয়ে আপত্তিও উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসব ভারী বোমার সম্ভাব্য ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং অস্ত্রগুলোর ব্যবহার আন্তর্জাতিক ও মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, সে বিষয়ে আরও নিশ্চয়তা চেয়েছেন।
তবে মিকসের আপত্তি একাই অস্ত্র চুক্তি বাতিল করার জন্য যথেষ্ট নয়। অতীতে ট্রাম্প প্রশাসন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ইসরাইলের জন্য অস্ত্র সরবরাহ অনুমোদন করেছে।
ক্যাপিটলে আয়োজিত কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন দমনে অভিবাসন আইন ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান সংস্কারের দাবি জানান।
এজেপি অ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক ওসামা আবু ইরশাইদ বলেন, ইসরাইলকে নতুন করে অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জনমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনসমর্থন বাড়ছে এবং এর প্রভাব আইনপ্রণেতাদের ওপরও পড়ছে। তাঁর বক্তব্য ও সংগঠনের অবস্থানকে এজেপি অ্যাকশনের রাজনৈতিক মতামত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে দেশটির সামরিক সক্ষমতা এবং আত্মরক্ষার অধিকারের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। ইসরাইলও গাজায় বেসামরিক মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং তাদের সামরিক অভিযান হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করে।
প্রস্তাবিত ২৮০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজটি নিয়ে কংগ্রেসে পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং এর বাস্তবায়ন এখন নজরে রয়েছে।