৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ খুলে দেওয়ার রূপরেখা ইরানের
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া ও বৃহত্তর শান্তি আলোচনার রূপরেখা দিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক: কানাডার অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, কানাডা ‘কোটি কোটি’ মানুষকে কার্যত যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই দেশে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছে। এর ফলে তৈরি হওয়া সমস্যা শিগগিরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। একই পোস্টে তিনি কানাডার অভিবাসন নীতিকে ‘লিবারেল টেকওভার’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এর প্রভাব দেশটির বেকারত্বের পরিসংখ্যানেও দেখা যাচ্ছে। তবে এসব দাবির সমর্থনে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেননি তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন কানাডা গত দুই বছরে অভিবাসন গ্রহণের হার কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির অভিবাসন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত নতুন শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী মিলিয়ে আগমন ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুলাই সময়ে নতুন শিক্ষার্থী ও কর্মী মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ জনের আগমন নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৪ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৬ হাজার ৫৭০। শিক্ষার্থী আগমন কমেছে ৮০ শতাংশ এবং নতুন কর্মী আগমন কমেছে ৫৯ শতাংশ।
কানাডা অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মীদের জন্যও নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, অভিবাসনের মাত্রা আবাসন, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখাই এসব নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
ট্রাম্পের ‘যাচাই-বাছাই ছাড়া’ মানুষ প্রবেশের অভিযোগের বিপরীতে কানাডার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে দর্শনার্থী, অস্থায়ী কর্মী, শিক্ষার্থী, অভিবাসী ও শরণার্থীদের জন্য নিরাপত্তা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
নিরাপত্তা, মানবাধিকার বা আন্তর্জাতিক অধিকার লঙ্ঘন এবং সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার মতো বিভিন্ন কারণে কোনো ব্যক্তিকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।
কানাডার অভিবাসন নীতির কারণে বেকারত্ব বেড়েছে—এমন দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে কানাডার বেকারত্বের সঙ্গে অভিবাসন নীতির সরাসরি সম্পর্কের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। কানাডায় আগস্টের বেকারত্বের হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
অন্যদিকে, কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতিও সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে কানাডার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটির জনসংখ্যা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৫ শতাংশ, যা এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে অন্যতম নিম্ন প্রবৃদ্ধির হার।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে অভিবাসননীতি, শ্রমবাজার ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।