পেজেশকিয়ানের ‘মাথা নত নয়’ বার্তায় বাহুবলীর যুদ্ধের দৃশ্য, ভাইরাল
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘের ‘মাথা নত নয়’ বার্তাকে তুলে ধরতে প্রভাস অভিনীত ‘বাহুবলী’র যুদ্ধের দৃশ্য ব্যবহার করেছে ইরানের হায়দরাবাদ কনস্যুলেট।
আন্তর্জাতিক: ভারতের মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার পর আগামী ২ অক্টোবর ‘জেল ভরো আন্দোলন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দলটি এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
সিজেপি আগে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে মুম্বাই পুলিশ ওই সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। এর পরই দীপকে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ঘোষণা দেন।
মুম্বাই পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, শিবাজী পার্কের মাঠ মূলত খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত। বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ ও পরবর্তী সরকারি আদেশ অনুযায়ী সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় অনুমতি, যান চলাচল এবং শব্দদূষণসহ বিভিন্ন বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দলটিকে মুম্বাইয়ের অন্য কোনো স্থানে কর্মসূচির জন্য অনুমতি চাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে সিজেপি। দলটি ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে।
দলটির দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এসব অভিযোগ সিজেপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দাবির অংশ; নির্বাচন কমিশন অবশ্য বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার সুযোগের কথা জানিয়েছে।
সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের পাশাপাশি SIR বন্ধ করা এবং আগের ভোটার তালিকা পুনর্বহালের মতো দাবিও তুলেছে।
পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে অভিজিৎ দীপকে সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নাগরিকদের প্রতিবাদের অধিকার বাধাগ্রস্ত করা হলে সিজেপি মুম্বাইয়ে ‘জেল ভরো আন্দোলন’ শুরু করবে।
দলটির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে মুম্বাইয়ে এই আন্দোলন হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম থেকে রাজপথে
ককরোচ জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ হয় ২০২৬ সালের মে মাসে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এটিকে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সামনে আনেন। পরবর্তী সময়ে বেকারত্ব, শিক্ষা, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।
শিবাজী পার্কে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার পর নতুন করে ‘জেল ভরো আন্দোলন’-এর ঘোষণা দেওয়ায় সংগঠনটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আবারও আলোচনায় এসেছে।