এশিয়ান গেমস ক্রিকেট শ্রীলঙ্কাকে ১২৪ রানে গুঁড়িয়ে ফাইনালে ভারত
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে শ্রীলঙ্কাকে ৪৫ রানে অলআউট করে ১২৪ রানের বিশাল জয়ে ফাইনালে পৌঁছাল ভারত। স্বর্ণের ম্যাচে প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।
স্পোর্টস: এবারের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে স্বাগতিকদের হারিয়ে অন্তত ফাইনাল খেলার প্রত্যাশা নিয়ে চীন/জাপান অভিমুখে দেশ ছাড়লেও সেমিফাইনালেই বড় হোঁচট খেল বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণ ও রৌপ্য জয়ের স্বপ্ন হাতছাড়া করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে ফাইনালের দৌড়ে ছিটকে গিয়ে এখন কেবল ব্রোঞ্জ পদক জয়ের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে লিটন দাসের দলকে।
বৃষ্টির বাগড়ায় নির্ধারিত ম্যাচ নেমে আসে ১৩ ওভারে। টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ ওভারে ৫ উইকেটে ১১২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৯ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে শেষদিকের বোলিং ব্যর্থতায়। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানের বাজে স্পেল ম্যাচের মোড় পুরোপুরি পাকিস্তানের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পর মোস্তাফিজ তাঁর ২ ওভারে মোট ৪১ রান দেন। শেষ ৪ ওভারে পাকিস্তানের যখন ৩৪ রান দরকার, তখন মোস্তাফিজ এক ওভারেই হজম করেন ২৩ রান।
প্রথম ওভারে অত রান দেওয়ার পরও কেন স্পিনারদের না দিয়ে মোস্তাফিজকে দিয়ে বোলিং করানো হলো—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন অধিনায়ক লিটন দাস।
“আজকে মোস্তাফিজ ৩টি উইকেট পেলে আপনি কিন্তু এই প্রশ্নটি করতেন না। এত দিন তো উনি ভালো বল করে আসছেন। আমার কাছে সে মুহূর্তে সেরা বিকল্প মোস্তাফিজকেই মনে হয়েছে, তাই তাকে দিয়ে করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনো মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, তাহলে আপনি করাবেন।”
দলগত ফলাফল বাংলাদেশ ১১২/৫ (১৩ ওভার) বনাম পাকিস্তান ১১৩/৪ (১১.৩ ওভার)।
ম্যাচের ফলাফল পাকিস্তান ৬ উইকেটে জয়ী (৯ বল হাতে রেখে)।
বাংলাদেশের পক্ষে তাওহীদ হৃদয় ২৫ বলে ৪২ রান।
মোস্তাফিজের স্পেল ২ ওভারে ৪১ রান (শেষ গুরুত্বপূর্ণ ওভারে ২৩ রান)।
পরবর্তী ম্যাচ ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা।
ব্যাট হাতে তাওহীদ হৃদয়ের ২৫ বলে ৪২ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস ছাড়া আর কেউ সুবিধা করতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাস নিজে ৩ বলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হন।
বাজে ব্যাটিং ও দলগত হারের পেছনে কদিন ধরে বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়া এবং উইকেটের চরিত্র সম্পর্কে আগাম ধারণা না থাকাকেই মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন অধিনায়ক।
“আমরা অনেক দিন ধরে হোটেল রুমে বসা ছিলাম। বৃষ্টি ও আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় উইকেটে অনুশীলন করার কোনো সুযোগ ছিল না। একদম ধারণা ছাড়াই আমরা প্রথম কয়েক ওভার ক্রিকেট খেলেছি। এতদিন বসে থেকে হুট করে গিয়ে এক্সট্রাঅর্ডিনারি বা অসাধারণ ইনিংস খেলা খুব সহজ কথা নয়।”
তবে অধিনায়ক অনুশীলনের অভাবকে সামনে আনলেও, দিন দুয়েক আগে দলের কোচ এবং গতকাল ব্যাটার ইয়াসির আলী রাব্বি সাফ জানিয়েছিলেন যে বৃষ্টির কারণে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। এমনকি প্রতিপক্ষ পাকিস্তান দলও একই পরিস্থিতিতে অনুশীলনহীন থাকলেও তারা মাঠে বেশ সাবলীলভাবেই বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে যায়।