শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফজলুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
অতীত আওয়ামী লীগ পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপি উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে দিলেন বক্তব্য।
রাজনীতি: আইনজীবীদের পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমকে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠিয়েছেন এক আইনজীবী।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক তুষার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে রামগঞ্জে এমপি শাহাদাত সেলিমের নিজ গ্রামের বাড়ির ঠিকানায় এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বিতর্কিত ও আপত্তিকর বক্তব্য ৭ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে প্রত্যাহারসহ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রামগঞ্জের ‘কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসায়’ বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম আইনজীবীদের উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
“রাতে আইনজীবীরা দোয়া করে যেন আগামীকাল ২-৪ জন মাদকসেবী পাই ও জামিন করাইতে পারি, যেন ভালমন্দ বাজার করে বাড়ি ফিরতে পারি। আইনজীবীরা দু-চার-দশ টাকার বিনিময়ে মাদকসেবীদের জামিন করাইয়া থাকে।”
বক্তব্যটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে লক্ষ্মীপুরসহ সারা দেশের আইনজীবী সমাজে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন কবীর স্বপন ও চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম খাঁন সুমনসহ স্থানীয় শীর্ষ আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতারা ফেসবুকে এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানান।
অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন সেলিম (এমপি, লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ)।
নোটিশদাতা অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক তুষার (লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালত)।
স্থান ও উপলক্ষ কচুয়া আহমদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান।
মূল দাবি ৭ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
আইনি আইডেন্টিটি দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় মানহানির অভিযোগে নোটিশ।
লিগ্যাল নোটিশকারী অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক তুষার জানান, বিচার ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান অঙ্গ আইনজীবীদের নিয়ে একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি হিসেবে শাহাদাত সেলিমের এমন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয়। সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ পরিপন্থী ও দণ্ডবিধির (Penal Code) ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় এটি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধ।
অন্যদিকে লিগ্যাল নোটিশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম সাংবাদিকদের বলেন।
“লিগ্যাল নোটিশটি এখনো হাতে পাইনি, তবে বিষয়টি শুনেছি। নোটিশ পেলে আমার আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হবে। মূলত মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে গিয়ে প্রাসঙ্গিকভাবে কথাগুলো উঠে এসেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় আংশিক ও খণ্ডিতভাবে ছড়িয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্যে এটি বলা হয়নি।”