প্রধানমন্ত্রী শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়তে চান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়তে চান উল্লেখ করে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
জাতীয়: দিনব্যাপী এক বিশেষ সরকারি সফরে নিজ নানাবাড়ি ফেনীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সড়কপথে ফেনীতে পৌঁছায় তাঁর গাড়িবহর। সফরে তিনি ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন, বৃক্ষরোপণ, রুফটপ সোলার বিদ্যুৎ সংযোগের শুভ সূচনা এবং ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে দুপুরে ফেনী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। নির্ধারিত সকল সরকারি ও জনসভামূলক কর্মসূচি শেষে আজ সন্ধ্যায়ই তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের পৈতৃক ভিটা। বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, ফলে এ অঞ্চলের মানুষের সাথে ঐতিহ্যগতভাবে গভীর মেলবন্ধন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানেরও।
সফরসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে পরশুরাম উপজেলার উপকণ্ঠে এবং খোয়াইঘাট মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১,৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প পুনর্বাসন (১ম পর্যায়)’ শীর্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও পরিধি ১ম পর্যায়।
অনুমোদন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক), ১৬ জুন।
মোট ব্যয় ১,৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা।
বাঁধ পুনর্বাসন ৬৭.৯২ কিলোমিটার।
নদীতীর সংরক্ষণ ১১.৭৩ কিলোমিটার।
নদী ও জলাধার পুনঃখনন ৮৩.৫০ কিলোমিটার।
অবকাঠামো নির্মাণ ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ।
মেয়ারকাল ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণ এবং নদী খনন ও পলি অপসারণ সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের পর প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজীতে ‘বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ’ প্রাঙ্গণে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরবর্তীতে তিনি ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি ভবনের ছাদভিত্তিক (রফটপ) সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনসমূহে মোট ৯৬২.৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে (ছাগলনাইয়ায় ৪১৫ কিঃওয়াট, পরশুরামে ২৯৮ কিঃওয়াট ও ফুলগাজীতে ২৪৯ কিঃওয়াট)।
বিকেলে ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মোট ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড, জেলাজুড়ে ৭,৬৪৩ জন কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ এবং ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পুরোহিতদের সরকারি সম্মানী ভাতা তুলে দেওয়া হবে।