জর্ডানের ওয়াদি রামে প্রথমবারের মতো হট এয়ার বেলুন স্কাইডাইভিং
জর্ডানের ওয়াদি রাম মরুভূমিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো হট এয়ার বেলুন স্কাইডাইভিং ও প্যারামোটর কার্যক্রম। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া খারিজের দাবিতে উত্তাল ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। গত শুক্রবার মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিপুল ও সফল সমাবেশের পর লোহা গরম থাকতেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। মধ্যরাতে সিজেপি আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে ‘এক্স’ হ্যান্ডলে এক বার্তায় আগামী ১০ অক্টোবর ‘যন্তর মন্তর ২.০’ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বাইয়ে সিজেপির ‘জেল ভরো’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিবাজি পার্কের আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার জেন-জি ও গণতন্ত্রকামী তরুণ জমায়েত হন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, মহারাষ্ট্রে একই দলের সরকার হওয়া সত্ত্বেও মুম্বাই পুলিশ এই আন্দোলন দমনে কোনো শক্তি প্রয়োগ বা গ্রেপ্তার করেনি, যার জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অভিজিৎ দিপকে।
এই সমাবেশে সংহতি জানিয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, শাবানা আজমি, সংগীতশিল্পী বিশাল দাদলানি, পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজ, হনসল মেহতা এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী। সমাবেশে সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গান্ধীজি, বাবাসাহেব আম্বেদকর ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের বিকল্প এ দেশে কিছু হতে পারে না।
মুম্বাইয়ে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ছিল সম্পূর্ণ যুদ্ধংদেহী মনোভাব। যন্তর মন্তরগামী প্রতিটি রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে দিল্লি পুলিশ। হাজার হাজার সশস্ত্র পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও জলকামানের সাহায্যে বিক্ষোভকারীদের বাধা দেওয়া হয় এবং অন্তত ১ হাজার ১০০ জনকে আটক করা হয়। একই দলের শাসনাধীন দুই রাজ্যে প্রশাসনের এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো।
তরুণ প্রজন্মের এই স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি থেকে কলকাতা ফিরে তিনি তরুণদের ওপর কোনো ধরনের অত্যাচার না করার আহ্বান জানান। এছাড়া তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য ডেরেক ও’ব্রায়েনও সামাজিক মাধ্যমে সিজেপির আন্দোলনকে সমর্থনের কথা জানান।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক বৈধতা ও যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখার জন্য সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মদন বি লোকুরের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে ‘ল’য়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর কনস্টিটিউশন’ (এলএএফসি)। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা এই কমিটিকে আইনি সহায়তা দেবেন। সবমিলিয়ে ১০ অক্টোবরের যন্তর মন্তর অভিযানকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতিতে বড় ধরনের উত্তেজনার পূর্বাভাস মিলছে।