দিল্লির ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই : ভূমিমন্ত্রী
দিল্লির ইশারায় চলা ষড়যন্ত্রকারীদের বাংলার মাটিতে স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তব্য। জাতীয় সংবাদ।
ঢাকা: বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় ওঠার কারণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী জানতে চান, আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনা করার পরও কীভাবে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ৫২০ টাকায় বিক্রি হতে পারে। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, সরবরাহ ঘাটতির কারণেই মূলত দাম বেড়েছে। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হয়, সেখানে বর্তমানে কোনো কোনো সপ্তাহে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা দেশে আসছে। উচ্চ শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক আমদানিকারক ফল আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর বাণিজ্যমন্ত্রী মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত এলসি খুলে সরবরাহ স্বাভাবিক করার তাগিদ দেন।
আসন্ন পবিত্র রমজান ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চলতি সপ্তাহেই খেজুরের শুল্কের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই সাপেক্ষে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন এবং কেউ পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকিও দিতে না পারেন।”
সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, এনবিআরের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন।