ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশ এখন আর দাতা-গ্রহীতার সম্পর্কের নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার। বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এমন মন্তব্য করেছেন ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। জাতীয় সংবাদ।
জাতীয়: নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন একসঙ্গে হাতে পেতে চলেছেন। তবে কার বকেয়ার পরিমাণ কত হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’-এর ওপর। আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে এই পে ফিক্সেশনের কাজ শুরু হচ্ছে, যা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) পোর্টালে পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। চাকরিজীবীদের এই পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সঠিক তথ্য দিতে হবে।
পাশাপাশি আগের বেতন নির্ধারণের ইতিহাস, পদোন্নতি, বদলি বা উচ্চতর গ্রেড সংক্রান্ত তথ্য এবং এর স্বপক্ষে থাকা অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা নিবিড়ভাবে যাচাই করবে। কোনো অসংগতি বা ভুল তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনলাইনে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করে। নতুন এই কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮—এই দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে এই বেতন-ভাতা কার্যকর করা হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে নতুন বেতন নির্ধারিত হবে। নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ এ বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ৭০ শতাংশ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বকেয়া বা এরিয়ার হিসেবে পরিশোধ করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। চলতি অর্থবছরে দুই দফায় এই অর্থ পরিশোধের জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে প্রথম এবং পরবর্তীতে আরও ৬ বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, আগের কাঠামোতে একাধিক টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন হিসাব নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দেওয়ায় তা সুনির্দিষ্ট নিয়মে সমাধান করা হচ্ছে। সঠিক তথ্য ও নথিপত্র দাখিলের মাধ্যমে কর্মচারীরা দ্রুত তাদের নির্ধারিত বকেয়া ও নতুন বেতন সুবিধা পেয়ে যাবেন।