ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে ২৫৭ হামলা, ৭০০ নিহতের দাবি
ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২৫৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: পাঞ্জাব সীমান্তে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সীমান্তে কথিত অনুপ্রবেশের প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে নয়াদিল্লি। একই ঘটনায় এর আগে পাকিস্তানও ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছিল।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি কূটনীতিককে তলব করে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশে ‘ধারাবাহিক সহায়তার’ অভিযোগে এ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২ অক্টোবর পাঞ্জাবের ফিরোজপুর সেক্টরের আন্তর্জাতিক সীমান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিন ব্যক্তি পাকিস্তান থেকে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশের পর সীমান্ত বেড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। বিএসএফ সদস্যরা একাধিকবার সতর্ক করে তাদের পাকিস্তানের দিকে ফিরে যেতে বললেও তারা এগিয়ে যেতে থাকেন। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা আসন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করায় বিএসএফকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়।
ভারত আরও বলেছে, ঘটনাটি পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র মাদক পাচারকারী চক্রের সীমান্তপারের তৎপরতার একটি প্রবণতা তুলে ধরে। এ ধরনের অনুপ্রবেশ ও মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি এতে পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসলামাবাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, নিহত দুজন ছিলেন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিক। ইসলামাবাদ বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বিরুদ্ধে ‘বিনা উসকানিতে’ প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে অযৌক্তিক ও মাত্রাতিরিক্ত বলেও মন্তব্য করেছে।
২ অক্টোবরের ঘটনায় দুই পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও আরও একজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। এ ঘটনার পর ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তান ঘটনাটির অবিলম্বে, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত দাবি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ। ভারতকে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত ব্যবস্থার প্রতি সম্মান দেখানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিয়ম মেনে চলা এবং নিজ ভূখণ্ড থেকে অননুমোদিত সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে নয়াদিল্লি।
অন্যদিকে পাকিস্তান নিহত দুজনকে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করার ভারতীয় বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ২ অক্টোবরের ওই ঘটনা নিয়ে দুই দেশের সরকারি বয়ানে স্পষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।
সীমান্তের এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও কূটনৈতিক তৎপরতা দেখা দিতে পারে।