ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থানে ২৫৭ হামলা, ৭০০ নিহতের দাবি
ইয়েমেনে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে ২৫৭টি হামলা চালানোর দাবি করেছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনী। এসব হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহতের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।
রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সির (WANA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফিদা’ নামে একটি কর্মসূচির আওতায় এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। রাজধানী তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সাধারণ নাগরিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
‘জানফিদা’ শব্দটির অর্থ আত্মোৎসর্গ বা নিজের জীবন উৎসর্গ করা।
ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটের সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
প্রথম পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে তাদের আরও উন্নত প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজে লাগানো যায়—এমন নাগরিক সক্ষমতা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এর আগে ইরান জানিয়েছিল, জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েন করা যায়—এমন অন্তত এক হাজার ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং প্যারামিলিটারি বাহিনী বাসিজেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সেপ্টেম্বরে বাসিজের তত্ত্বাবধানে তেহরানে জানফিদা কর্মসূচির একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধার অভিযান ও অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণকে প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কর্মসূচিটি নিয়ে দেশটির ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে প্রশিক্ষণে কারা অংশ নিচ্ছেন, তাদের কী ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো সহায়ক সামরিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ইরানের এমন উদ্যোগ দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাকে সামনে এনেছে।