রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধের আহ্বান টিআইবির
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রশ্রয় ও সহিংসতার পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। জাতীয় সংবাদ।
ঢাকা: রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট নজিরবিহীন উত্তেজনা ও তুলকালাম কাণ্ডের নেপথ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মদিনা স্টেশনের চরম গাফিলতি এবং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একটি মাত্র কনটেইনার যথাসময়ে না আসার জেরে সৃষ্ট সেই ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত হাতবদল হয়ে মামলা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তার গ্রেপ্তারে গড়ায়।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত মদিনা থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-৩৩৮’ ফ্লাইট নিয়ে। ওই ফ্লাইটে মোট ১৮টি কনটেইনার থাকার কথা থাকলেও ১৭টি যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছালেও জমজমের পানি ভর্তি ১৮ নম্বর কনটেইনারটি মদিনা বিমানবন্দরেই পড়ে থাকে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, কনটেইনারটি যে মদিনায় রয়ে গেছে, সেই তথ্য ঢাকার ব্যাগেজ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি।
এর ফলে ফ্লাইটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে লাগেজ পেলেও জমজমের পানি না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ে পানি না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিদেশি স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনা ও এর কর্মকর্তাদের যোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বিমান সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মদিনা স্টেশনের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমানের গ্রাউন্ড সার্ভিসে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বা পূর্ববর্তী এ ধরনের দায়িত্ব পালনের কোনো রেকর্ড ছিল না।
খ্যাতিসম্পন্ন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, বিদেশি স্টেশনগুলোতে দক্ষতা ও জবাবদিহির ঘাটতি থাকলে তার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যাত্রীসেবা ও ফ্লাইট পরিচালনার ওপর। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট অপারেশন, নিরাপত্তাবিধি ও টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকা বাধ্যতামূলক। এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে বিমানের সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিমান কর্তৃপক্ষও বিদেশি স্টেশনগুলোর ব্যবস্থাপনায় কড়াকড়ি আরোপ এবং পদায়নে যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্বের জেরে বিমানবন্দরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা একপর্যায়ে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেলে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান তার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা এবং নির্বাহী পরিচালককে হুমকির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়। গত শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তারের পর এক দিনের রিমান্ড শেষে গত রোববার আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরিশেষে, জমজমের পানি নিয়ে শাহজালালে ঘটে যাওয়া এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, কেবল যাত্রীদের সাময়িক ক্ষোভ নয়, বরং বিমান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বৈদেশিক স্টেশনগুলোর অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাব কীভাবে একটি বড় সংকটের জন্ম দিতে পারে।