আন্তর্জাতিক: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কিংবা প্রয়োজনে এককভাবেও সম্ভাব্য হামলা চালানোর প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা ও সামরিক সহযোগিতা বজায় রেখে সম্ভাব্য অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য আগাম হামলা কিংবা ইরানের কোনো হামলার জবাব—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরাইল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন হামলার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে ওই প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ইসরাইলের অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়ালা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইলে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা ও বিমান পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলে বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন।
এর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনাকারী সদস্য, পাইলট ও সহায়ক কর্মীরাও রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সম্ভাব্য অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুতি জোরদার করছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগের পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ন্যায্য সমাধানে পৌঁছাতে আলোচনায় আগ্রহী।
সাম্প্রতিক আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরানের একটি প্রস্তাব সামনে এসেছে। কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন। তবে পরবর্তী সময়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়; একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলের সম্ভাব্য নতুন পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে কতসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা ও বিমান পাঠাবে—তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয়। ফলে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টি আপাতত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবির মধ্যেই রয়েছে।