ওকিনাওয়ায় নারী হত্যার অভিযোগ, মার্কিন সেনাদের মাসব্যাপী কারফিউ
জাপানের ওকিনাওয়ায় স্থানীয় নারী হত্যার অভিযোগে মার্কিন মেরিন গ্রেপ্তারের পর মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের রাতের কারফিউ ও ৪৮ ঘণ্টার সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী কাতার। সাত মাস ধরে চলা সংঘাতে আলোচনার প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থা দেখা দিলেও কাতারের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান এখনো চলছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম বিন সুলতান আল-হাশমি মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং কাতার ও তার আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বার্তা বিনিময় হচ্ছে।
আল-হাশমি জানান, আলোচনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। সংকটের অবসানে আলোচনার টেবিলে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ইরানের প্রথম সারির নেতাদের পাশাপাশি দ্বিতীয় সারির নেতারাও আর নেই এবং দেশটি বর্তমানে কে পরিচালনা করছে, সেটিই তাঁর জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এর আগে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ভালোভাবেই জানে ইরানের সঙ্গে কারা আলোচনা করছে এবং দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো কীভাবে কাজ করে। তাঁর ভাষ্য, সমস্যা ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে নয়; বরং মার্কিন কর্মকর্তাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ও অস্পষ্ট বার্তায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হন। তবে একই হামলায় আহত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে দেখা দেননি। এ পরিস্থিতি ইরানের নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।
একই সময়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের যেকোনো চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং তা যাচাইযোগ্যভাবে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নেতৃত্বের প্রশ্নের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে আছে।
চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সামরিক সংঘাত অব্যাহত থাকার মধ্যেও কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
দোহা বলছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিরাপত্তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে।