পরোক্ষ আলোচনা চলছে, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ট্রাম্পের
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেও কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক: জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে স্থানীয় এক নারীকে হত্যা ও তার মালামাল ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনা গ্রেপ্তারের পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের ওপর এক মাসের রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার জন্য সব সামরিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দেশ অনুযায়ী, ৩০ দিনের ‘পিরিয়ড অব রিফ্লেকশন’-এর অংশ হিসেবে প্রতি রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সেনাদের নিজ নিজ ঘাঁটি বা বাসস্থানে থাকতে হবে। ৪৮ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ পর্বে ঘাঁটির বাইরে যাতায়াতের অনুমতিও থাকবে না এবং এ সময় মদপানে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ওকিনাওয়ার রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আনা ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের অভিযোগ, তিনি ওই নারীকে হত্যা এবং তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে গেছেন। তবে ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শ্বাসরোধের কারণে ইয়াগির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোটেলের কর্মীরা নির্ধারিত সময়ে ওই নারী চেক-আউট না করায় তার কক্ষে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। সিসিটিভি ফুটেজে ইয়াগির সঙ্গে এক ব্যক্তিকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
ঘটনার পর ওকিনাওয়ায় মার্কিন বাহিনীর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন ৪৮ ঘণ্টার ‘অপারেশনাল পজ’ ঘোষণা করেন। এ সময়ে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেনাসদস্যদের শৃঙ্খলা, আচরণবিধি, মদ্যপান-সচেতনতা, ওকিনাওয়ার সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ওয়াটসন বলেন, সেনাদের আচরণ ওকিনাওয়ার মানুষের আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ ধরনের ঘটনা জাপান-যুক্তরাষ্ট্র জোটের শক্তি এবং পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
ঘটনাটির নিন্দা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি হত্যাকাণ্ডকে অত্যন্ত নৃশংস ও জঘন্য বলে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজাও মার্কিন সেনাদের আচরণ ও শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। শব্দদূষণ, সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এবং মার্কিন সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এ ক্ষোভকে আরও বাড়িয়েছে। ১৯৯৫ সালে তিন মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর দ্বীপটিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল।
জাপানে প্রায় ৫৪ হাজার মার্কিন সামরিক সদস্য অবস্থান করেন এবং তাঁদের বড় একটি অংশ ওকিনাওয়ায় মোতায়েন। চীন ও তাইওয়ানের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা জোটের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে নতুন এ ঘটনা স্থানীয় ক্ষোভের পাশাপাশি দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।