রক্তাক্ত ৭ নভেম্বর: নায়ক, খলনায়ক ও ইতিহাস| রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি, সিপাহী-জনতার বিপ্লব এবং শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের বিশেষ নিবন্ধ।
আজ ৭ নভেম্বর ২০২৬। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫১তম জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৮ বছর পর রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হচ্ছে — সরকারি ছুটি, সারা দেশে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আর্মি স্টেডিয়ামে বিশেষ ডিসপ্লে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে টোল-মুক্ত। ইতিহাস ফিরে এসেছে রাষ্ট্রের মূল স্রোতে।
আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শেরে বাংলানগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিকেলে নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত বর্ণাঢ্য সার্বভৌমত্ব র্যালিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। সেখানে তাঁর একটি বাক্য ছিল আজকের বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “আর কখনো যেন কেউ এদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেজন্য ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এটাই হোক ৭ নভেম্বরের মূল শপথ।”
কেন এই ঐক্যের ডাক আজ এত গুরুত্বপূর্ণ?
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের হাত থেকে রক্ষা করেছিল। ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থানেও তরুণরাই প্রমাণ করেছে, তারা দেশের স্বার্থে আপস করেনি। প্রধানমন্ত্রী আজ সেই ধারাবাহিকতাকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।
ঐক্যের এই বার্তার পাশাপাশি আজ আরেকটি মানবিক ও যুগান্তকারী ঘোষণা এসেছে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম পুলিশের বেতন ৭,৫০০ থেকে ১০,৫০০ টাকা, প্রধানদের ৮,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকা বৃদ্ধি, অবসর ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি তৃণমূলের নিরাপত্তা ও নারীর ক্ষমতায়নে একটি বড় পদক্ষেপ।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বাণীতে বলেছেন, ৭ নভেম্বর সৈনিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে পুনরুদ্ধার করেছিল।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু যেমন বলেছেন, “৭ নভেম্বরেই বাংলাদেশ পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়।” শহীদ জিয়া আইয়ুব বা এরশাদের মতো ক্ষমতায় আসেননি — তিনি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে জনগণের নয়নের মণি হয়েছিলেন।
৭ নভেম্বর আমাদের শেখায় — বিভক্তি আমাদের দুর্বল করে, ঐক্যই আমাদের বাঁচায়। যখন সেনানিবাস ও রাজপথ এক সুরে বলে “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”, তখন কোনো ষড়যন্ত্র টেকে না। আজকের বাংলাদেশকে যদি তাবেদার রাষ্ট্র হওয়া থেকে বাঁচাতে হয়, যদি অধিকার ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যকেই ধারণ করতে হবে — দল-মত নির্বিশেষে। এটাই হোক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আধুনিক অঙ্গীকার।
লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।