ফুল হাতে প্রতিদ্বন্দ্বীর বাড়ি: ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন রাজনীতির জানালা।। রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিজয়ের পর জামায়াত প্রার্থীর বাড়ি গিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন মির্জা ফয়সল আমীন। রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের কলাম।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ — এটি শুধু একটি রেজাল্ট নয়, এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত। যারা এবার কৃতকার্য হয়েছো, তোমাদের সবাইকে জানাই অন্তরের অন্তস্থল থেকে অভিনন্দন।
গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন।
এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন, গড় পাসের হার ৫২.১২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন।
অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। এবার ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করেছে, আর ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি — যা আমাদের শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখায়।
দীর্ঘ ১২ বছরের স্কুল-কলেজ জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তোমরা সফলভাবে পার করেছো। এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তোমাদের নির্ঘুম রাত, তোমাদের বাবা-মায়ের নীরব ত্যাগ আর শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। তোমরা প্রমাণ করেছো — পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের প্রেরণামূলক বার্তা:
এই ফলাফলের প্রেক্ষাপটে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সকল শিক্ষার্থীর জন্য পথপ্রদর্শক:
“জিপিএ-৫ পাওয়াই জীবনের সবকিছু নয়, এটি সাফল্যের একটি ধাপ মাত্র। লক্ষ্য বড় করো, স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে চলো। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছ, হতাশ না হয়ে দ্বিগুণ মনোবলে এগিয়ে যাও। তোমাদের সামনেও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তোমাদের সকলের জন্য শুভ কামনা।”
তাঁর এই কথাই আজকের বাস্তবতা। এবার মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে (৫৬.৩১%) আর ছেলেদের ৪৭.৭৫%, কিন্তু জিপিএ-৫ এ ছেলেরা ২০,৩৬৩ জন এবং মেয়েরা ১৯,৭২১ জন।
এবার সামনে কী? বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিযুদ্ধ:
১. বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি: যারা মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাও, এখন থেকেই গুছিয়ে প্রস্তুতি শুরু করো। পাসের হার কম হওয়ায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে।
২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সঠিক সাবজেক্ট নির্বাচন:সবাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবে না, এটাই বাস্তবতা। কিন্তু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও আজ অনেক ভালো বিষয় আছে। সাবজেক্ট নির্বাচনে আবেগে নয়, ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নাও।
৩. কারিগরি ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষা: বর্তমান পৃথিবী দক্ষতার পৃথিবী। শুধু সার্টিফিকেট নয়, স্কিল থাকলে তোমার চাকরি আটকাবে না।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ: আপনার সন্তানকে অন্যের সন্তানের সাথে তুলনা করবেন না। তার পাশে থাকুন, সাহস দিন।
সকল কৃতকার্য শিক্ষার্থীকে আবারও অভিনন্দন, আর অকৃতকার্যদের জন্য দ্বিগুণ শুভকামনা — আগামীবার তোমরাই সফল হবে।লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।