৩১৮ কারখানা বন্ধ: পোশাক শিল্পে আগুন লাগার আগেই পানি ঢালুন-রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান
পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ ও ৩১৮ কারখানা বন্ধ নিয়ে রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসানের কলাম। অর্থনীতির প্রধান খাতে দ্রুত সমাধানের তাগিদ।
ঢাকার আকাশে আজ এক নতুন আলো। গতকাল ৩ নভেম্বর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন তিন দিনব্যাপী “বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬”। আজ ৪ নভেম্বর তার শেষ দিন।
এই এক্সপোর প্রতিপাদ্য আমার মনে গভীর দাগ কেটেছে – “প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই”। এটি কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির নতুন মন্ত্র হতে পারে।
আমরা যখন এই শহরে বাস করি, আমাদের সবচেয়ে বড় কষ্ট কী? বিদ্যুৎ বিল আর গ্যাসের সংকট। আজ সকাল থেকেই খবর – মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল মেরামতের কারণে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকবে। এই সংকট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, আমদানি নির্ভর জ্বালানির ওপর ভরসা করে আমরা আর কতদিন চলব?
অথচ আমাদের মাথার ওপরেই আছে সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র – সূর্য।
অভিজাত এলাকাগুলোই হতে পারে পথপ্রদর্শক
আমার প্রশ্ন হলো, এই বিপ্লব শুরু হবে কোথা থেকে? উত্তর খুব সোজা – আমাদের রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলো থেকে।
ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা, মিরপুর সহ রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে হাজার হাজার বাড়ি ও ভবনের বিশাল বিশাল ছাদ মাসের পর মাস খালি পড়ে আছে। এসব বাড়িতে শুধু পানির ট্যাংক আর কাপড় শুকানো ছাড়া ছাদের কোনো ব্যবহার নেই।
একটি হিসাব দেখুন – গুলশান বা বারিধারার একটি বাড়ির ছাদ গড়ে ৩০০০ থেকে ৫০০০ বর্গফুট। এই ছাদে ১৫-২০ কিলোওয়াট সোলার বসালে শুধু তার নিজের বাড়ির এসি, লিফট, লাইটের চাহিদাই মিটবে না, মাসে ২০-২৫ হাজার টাকার বিদ্যুৎ সরকারকে বিক্রি করেও আয় করা সম্ভব।
ধানমন্ডির একটি ৬ তলা ভবনের ছাদে সোলার বসালে পুরো ভবনের কমন বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনা যায়। মিরপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যেখানে ফ্ল্যাটের সংখ্যা বেশি, সেখানে সমিতির মাধ্যমে যৌথভাবে সোলার বসালে প্রতিটি ফ্ল্যাট মালিকের মাসে ১৫০০-২০০০ টাকা করে সাশ্রয় হবে।
অভিজাত এলাকার মানুষ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে রাজধানীর মধ্যবিত্ত এলাকার মানুষও উৎসাহ পাবে। কারণ অভিজাতরাই সমাজে ট্রেন্ড তৈরি করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ সফল করতে তিনটি কাজ জরুরি:
১. সহজ ঋণ: গুলশান-বারিধারার অনেক বাড়ির মালিকের পক্ষেও একসাথে ১০-১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা কঠিন মনে হতে পারে। সরকারকে ৪% সুদে সহজ কিস্তিতে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। সোলার এক্সপো থেকেই যেন ব্যাংক লোনের অনুমোদন পাওয়া যায়।
২. ওয়ান স্টপ সার্ভিস: নেট মিটারিং এর জন্য এখনো বিদ্যুৎ অফিসে মাসের পর মাস ঘুরতে হয়। ধানমন্ডি, গুলশানের মানুষের সময়ের দাম আছে। তারা হয়রানি পছন্দ করেন না। তাই সোলার কোম্পানি, ব্যাংক ও DESCO/NESCO এক টেবিলে বসে ৭ দিনের মধ্যে সংযোগ দিতে হবে।
৩. সম্মাননা: যে বাড়ি বা যে এলাকা সবচেয়ে বেশি সোলার স্থাপন করবে, সেই বাড়িকে সিটি কর্পোরেশন থেকে “গ্রিন হাউস” সার্টিফিকেট এবং হোল্ডিং ট্যাক্সে ১০% ছাড় দিতে হবে। মানুষ উৎসাহ পাবে।
গ্যাস সংকটের এই দিনে সোলার এক্সপো আমাদের জন্য একটি বার্তা নিয়ে এসেছে – নিজের বিদ্যুৎ নিজে উৎপাদন করো।
আসুন, আমরা আহ্বান জানাই – ধানমন্ডি, গুলশান, বারিধারা, মিরপুর সহ রাজধানীর অভিজাত এলাকার প্রতিটি বাড়ির মালিক তার প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগান। আপনারা পথ দেখালে পুরো বাংলাদেশ আলোকিত হবে।
লেখক: রোটারিয়ান এম নাজমুল হাসান, বিশিষ্ট কলামিস্ট, রাজনীতিক এবং রাষ্ট্রচিন্তক।