জরুরি তেলের মজুত হ্রাস ও ঋণ বৃদ্ধি, বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আইএমএফের চরম সতর্কতা
আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ২০২৬’ প্রতিবেদনে তেলের মজুত হ্রাস ও সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ঝুঁকিতে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ।
আন্তর্জাতিক: ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরের সরকারি স্বীকৃতি বাতিলের মাত্র একদিন পরই সেখানে নাটকীয়ভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) সকালে যন্তর মন্তরের বন্ধ গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ করার সময় তাঁদের আটক করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা, প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং দলটির জাতীয় সংগঠন ইনচার্জ অজিঙ্ক শিন্ডে অন্তত ১০ জন কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে হাতে জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে যন্তর মন্তরের বন্ধ গেট টপকে ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে প্রবেশ করেই তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে সোচ্চার হন এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দো’ বলে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে উপস্থিত দিল্লি পুলিশের সদস্যরা তাঁদের দ্রুত আটক করে হেফাজতে নেন।
আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস দাবি করেন, তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যেই যন্তর মন্তরকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।
ভিডিওতে সৌরভ দাস মন্তব্য করেন, “এটি বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী অবস্থানের বিরুদ্ধে আমাদের একটি স্পষ্ট বার্তা।” অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যেকোনো বিনিময়ে এবং যেকোনো মূল্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এই যন্তর মন্তরের মাটি থেকেই নিশ্চিত করা হবে।
এদিকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সরকারের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “আদেশ বা নোটিশ জারি করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আন্দোলন স্তব্ধ করা সম্ভব নয়।” যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলের স্বীকৃতি বাতিলের সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্দোলন দমনের এই অপচেষ্টার পরিণতি হবে আরও ভয়ংকর এবং এখন থেকে ভারতের পুরো দেশটাই যন্তর মন্তরে পরিণত হবে।
উল্লেখ্য, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ গত সোমবার এক আদেশে যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন বা বিক্ষোভ প্রদর্শনস্থল হিসেবে বাতিল ঘোষণা করে। এর পরিবর্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে প্রতিবাদের নতুন স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে এই যন্তর মন্তরে সিজেপির গণআন্দোলনের মুখে ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।