জাগছে ‘নরকের মুখ’: নিকারাগুয়ার মাসায়া আগ্নেয়গিরিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণের আশঙ্কা
মধ্য আমেরিকার নিকারাগুয়ার ভয়ংকর মাসায়া বা ‘মাউথ অব হেল’ আগ্নেয়গিরির গভীরে দুটি প্রকোষ্ঠে জমছে নতুন ম্যাগমা। বিজ্ঞানীদের বড় ধরনের সতর্কবার্তা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম – এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন (রোসাটম)-এর নির্মিত কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হচ্ছে সর্বাধুনিক ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ (ওআইএসএস)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রোসাটমের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রোসাটমের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘আরএএসইউ’ সরবরাহ করা এই স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ৪৩টি উপ-সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার সংবেদনশীল যন্ত্রপাতি রয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির সাহায্যে নিউক্লিয়ার চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিভিন্ন পরিচালন প্রক্রিয়ার ৭ হাজারের বেশি প্যারামিটার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরবচ্ছিন্ন পরিচালন কার্যক্রমের নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্যতা ও সার্বিক কর্মদক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম’ (ওআইএসএস)। বিদ্যুৎ ইউনিটের ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তির সহায়তায় এটি তৈরি করেছে আরএএসইউ। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে এটি সফলভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে, যা স্টার্টআপ কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। শীঘ্রই দ্বিতীয় ইউনিটেও এই রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হবে।
এই সিস্টেমটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩৬০টি প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট ব্যবস্থা থেকে পাওয়া তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্লেষণ করে যেকোনো সম্ভাব্য বিচ্যুতি তৎক্ষণাৎ শনাক্ত করতে সক্ষম। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতেকরণীয় সম্পর্কে অপারেটিং ইঞ্জিনিয়ারদের দিকনির্দেশনা দিতে এটি ৮০টিরও বেশি নিরাপত্তা নির্দেশিকা প্রয়োগ করে। জটিল প্রযুক্তিগত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করায় এটি নিয়ন্ত্রণকক্ষের প্রকৌশলীদের দ্রুত, কার্যকর ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, “রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কেবল রাশিয়া ও বাংলাদেশের গভীর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বৃহত্তম নিদর্শনই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি একটি বৈশ্বিক অগ্রণী প্রকল্প। রাশিয়ার বাইরে আমাদের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, এই ব্যবস্থা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে সাড়া দিতে সাহায্য করবে, পরিচালন ব্যয় অনেকাংশে কমাবে এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কಂಟট্রোল রুমের কর্মীদের সর্বোচ্চ নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, জেনারেশন ৩+ (থ্রি প্লাস) প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ (VVER-1200) চুল্লি নিয়ে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর। প্রকল্পটির মূল নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রোসাটমের প্রকৌশল শাখা অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (ASE)।