বিশ্ব

ইউক্রেনকে সহায়তায় জব্দকৃত রুশ সম্পদ ব্যবহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বসছে ইইউ

ব্রাসেলস:  রণক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অব্যাহত অগ্রগতির মুখে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিল জোগাতে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিরাপত্তা এখন ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’: ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দেওয়াকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য এই মুহূর্তের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি বলেন, “বিপজ্জনক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।” তিনি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের চাহিদা মেটাতে দুটি আর্থিক প্রস্তাব পেশ করেছেন— যার একটি যৌথ ঋণ গ্রহণ এবং অন্যটি জব্দকৃত রুশ সম্পদের বিপরীতে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ ব্যবস্থা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো সম্পদ জব্দ আছে, যার সিংহভাগ বেলজিয়ামভিত্তিক ‘ইউরোক্লিয়ার’-এ গচ্ছিত।

চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ রাশিয়ার ৯০ বিলিয়ন ইউরো সরাসরি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের পক্ষে। তিনি মনে করেন, এতে ইউক্রেনের দুই বছরের সহায়তা নিশ্চিত হবে এবং পুতিনকে কঠোর বার্তা দেওয়া যাবে।

বেলজিয়াম আশঙ্কা করছে, আইনি জটিলতায় বিশাল আর্থিক দায় তাদের ওপর বর্তাতে পারে। ইতোমধ্যে রাশিয়া ২৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-ও সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া এই সম্পদ ব্যবহারের নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন।

হাঙ্গেরি সরকার ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে ইইউ বাজেট ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে সব দেশের সম্মতির প্রয়োজন নেই, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনই যথেষ্ট। ইইউ কর্মকর্তারা জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে রুশ সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করছেন, যাতে হাঙ্গেরি বা অন্য কোনো দেশ প্রতি ছয় মাস অন্তর ভেটো দেওয়ার সুযোগ না পায়।

ক্রেমলিন ইইউ-র এই উদ্যোগকে সরাসরি ‘চুরি’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ব্রাসেলস সম্মেলনে আজ এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

Related News

হুথি হামলায় সৌদি আরবে ৭৩ বেসামরিক নাগরিক আহত

দক্ষিণ সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরানে হুথি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দাবি সৌদি জোটের।

পারস্য উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে চায় রাশিয়া

পারস্য উপসাগরীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ

হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের রাজধানী সানা পুনর্দখলের প্রস্তুতি

হুথিদের কাছ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা পুনর্দখলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার

রাশিয়ায় বরফধসে পর্বতারোহী নিহত

রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের কাবার্ডিনো-বালকারিয়ায় বরফধসে অন্তত ১১ পর্বতারোহী নিহত ও ৬ জন আহত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় চলছে উদ্ধার অভিযান।

দিল্লিতে মণিপুরী সংগীত শিক্ষক হত্যা

দিল্লির কিলোকারিতে উচ্চ শব্দে হৈচৈ করতে নিষেধ করায় একদল যুবকের হামলায় মণিপুরী গিটারিস্ট ও সংগীত শিক্ষক চোংথাম বিক্রম সিং নিহত হয়েছেন।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার সক্ষমতা ইরানের আছে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতা ইরানের নেই—ওয়াশিংটনের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন তেহরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে আল-রেজা।

ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চায় আরব লীগ

ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষায় অবিলম্বে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে আরব লীগ। গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে জোটটি।

ভক্সওয়াগন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম

সংকট মোকাবিলায় ভক্সওয়াগনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে একটি কারখানা বিক্রি করা হচ্ছে। সেখানে রাফায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রকল্পের সরঞ্জাম তৈরি হবে।

Search