দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ১ কোটি ৪০ লাখ: ইরানি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, দেশের সুরক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখ নাগরিক জীবন দিতে প্রস্তুত। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সর্বশেষ তথ্য জানুন।
ব্রাসেলস: রণক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অব্যাহত অগ্রগতির মুখে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিল জোগাতে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা এখন ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’: ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দেওয়াকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য এই মুহূর্তের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তিনি বলেন, “বিপজ্জনক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে।” তিনি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের চাহিদা মেটাতে দুটি আর্থিক প্রস্তাব পেশ করেছেন— যার একটি যৌথ ঋণ গ্রহণ এবং অন্যটি জব্দকৃত রুশ সম্পদের বিপরীতে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ ব্যবস্থা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো সম্পদ জব্দ আছে, যার সিংহভাগ বেলজিয়ামভিত্তিক ‘ইউরোক্লিয়ার’-এ গচ্ছিত।
চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ রাশিয়ার ৯০ বিলিয়ন ইউরো সরাসরি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের পক্ষে। তিনি মনে করেন, এতে ইউক্রেনের দুই বছরের সহায়তা নিশ্চিত হবে এবং পুতিনকে কঠোর বার্তা দেওয়া যাবে।
বেলজিয়াম আশঙ্কা করছে, আইনি জটিলতায় বিশাল আর্থিক দায় তাদের ওপর বর্তাতে পারে। ইতোমধ্যে রাশিয়া ২৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি-ও সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া এই সম্পদ ব্যবহারের নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন।
হাঙ্গেরি সরকার ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে ইইউ বাজেট ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ ব্যবস্থাটি কার্যকর করতে সব দেশের সম্মতির প্রয়োজন নেই, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনই যথেষ্ট। ইইউ কর্মকর্তারা জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে রুশ সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রাখার পরিকল্পনা করছেন, যাতে হাঙ্গেরি বা অন্য কোনো দেশ প্রতি ছয় মাস অন্তর ভেটো দেওয়ার সুযোগ না পায়।
ক্রেমলিন ইইউ-র এই উদ্যোগকে সরাসরি ‘চুরি’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ব্রাসেলস সম্মেলনে আজ এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটবে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।