তেহরান: একদিকে ইসরায়েলের একের পর এক চাঞ্চল্যকর হামলা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চরম অস্থিতিশীলতা—সব মিলিয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান। এই সংকটময় মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে ঘোষণা করেছেন, ইরানের মাটি রক্ষায় ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি নাগরিক আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক আবেগঘন বার্তায় প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানকে রক্ষা করা তাঁর জীবনের অন্যতম ব্রত। তিনি বলেন, “আমিও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি, করছি এবং ভবিষ্যতেও তা করতে থাকব।” তাঁর এই বার্তা এমন এক সময়ে এল, যখন ইরান বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে রয়েছে।
২৪ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান ভয়াবহ মানবিক সংকটের সম্মুখীন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত ও ইসরায়েলি হামলায় দেশটিতে ২,০৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ২৬,৫০০ জনেরও বেশি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হারানো। ইসরায়েলি অভিযানে দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রভাবশালী নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানির মৃত্যু তেহরানের রাজনীতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে ঘিরে দেশটিতে শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই জীবন উৎসর্গের ডাক মূলত জনমনে সাহস জোগানো এবং দেশের অভ্যন্তরে জাতীয় ঐক্য সুসংহত করার একটি বড় প্রচেষ্টা। তবে এই সংকট উত্তরণে ইরান সরকারের পরবর্তী কৌশল কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।